তিস্তায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
তিস্তায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টা থেকে তা ৩ সেন্টিমিটার কমে ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়িতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এক হাজার মিটার দীর্ঘ বালির বাঁধের ১০০ মিটার ধসে গেছে।
নীলফামারী ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্ভাবাস সর্তকীকরণ কেন্দ্রের সূত্র মতে, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে আজ সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৬৫) উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার।
এছাড়া ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সূত্র মতে, ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকার ডালিয়ায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১০৮ মিলিমিটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
এদিকে তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ড, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, কালিগঞ্জ, রংপুরের গঙ্গচড়া উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত চর ও চর গ্রামগুলোর ২৫টি চর ও গ্রামের ১০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
অপরদিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়িতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এক হাজার মিটার দীর্ঘ বালির বাঁধের ১০০ মিটার ধসে গেছে। বাঁধটি রক্ষার জন্য এলাকার শত শত মানুষ বালির বস্তা, গাছ, বাঁশের গুঁড়ি ও খুঁটি ফেলে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ছাতুনামা ও ফরেস্টের চরের ৭০০ পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, উজানের ঢলে ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি সকাল ৬টা থেকে ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে ৩ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
জাহেদুল ইসলাম/এফএ/আরআইপি