অচল হয়ে পড়েছে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়ক
অচল হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি বাণিজ্যিক সড়ক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীসহ যানবাহনের চালকরা।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ৩৭ কিলোমিটার অংশেই খানাখন্দে থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পাহাড়ী জনপদের মানুষ। তবে ঈদের আগেই খানাখন্দ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে জেলা সড়ক বিভাগ।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল নেত্রকোনা সওজ। ৫টি ছোট সেতু, ১০টি কালভার্টসহ ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজও করা হয়েছিল। ১২ প্রস্থ ফুট সড়ককে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হয়। কিন্তু সংস্কারের দেড় বছরের মাথায় ২০১৪ সালের শেষ দিকে সড়কের কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হতে শুরু করে।
বর্তমানে সড়কটির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। আগে মাঝে মাঝে ইট-বালু ফেলে খানাখন্দ ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছে। মাস তিনেক ধরে তাও বন্ধ। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো সড়ক।
জেলা সওজ কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন করে প্রশস্ত করার সময় সড়কে বালুর যে স্তর দেয়ার প্রয়োজন তা দেয়া হয়নি। তাই সড়কটি দেবে গিয়ে এমন অবস্থা হয়েছে।
এছাড়া দুর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু-পাথর-কয়লা এবং বিজয়পুর পাহাড় থেকে সাদা মাটি উত্তোলন করে এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেড় হাজারেরও বেশি ট্রাক যাতায়াত করছে।
বেশির ভাগ ট্রাকেই ২৫ থেকে ৩০ টন পর্যন্ত ভেজা বালু বা অন্যান্য মালামাল থাকে। ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটির বেহাল অবস্থা হয়েছে। এটি ঢাকা, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা শহর থেকে দুর্গাপুরের বিরিশিরি যাতায়াতের একমাত্র সড়ক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপুরের উতরাইল বাজার থেকে পূর্বধলার চৌরাস্তার কাছাকাছি আতকাপাড়া লালমিয়ার দোকান পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়কের কোনো স্থানেই পিচঢালাই নেই। সড়কের গর্তে জমেছে পানি আর কাদা।
পূর্বধলার ভোটেরবাজার এলাকায় ট্রাক নিয়ে খাদে আটকা পড়ে থাকা ট্রাকের চালক কবির মিয়া জাগো নিউজকে জানান, জারিয়ার ঘাট থেকে বালু নিয়ে আসতে পথে তিনবার চাকা খাদে আটকে গেছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গেছে।
একই সড়কের এক সিএনজি চালক জাগো নিউজকে জানান,‘র্দীঘ দিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে সিএনজি চালাই। আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরিশিরি থেকে ময়মনসিংহে গিয়ে দিনে একবার মাত্র আসা যায়। আগে এই সড়কে ২০ মিনিট পর পর বাস চলতো। এখন দিনে ময়মনসিংহে চারটি ও ঢাকায় দুটি যান চলছে। টানা বৃষ্টি থাকলে বাসও বন্ধ থাকে।’
ঝানঞ্জাইল উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে জানায়, সড়কটির এ অবস্থার কারণে অটোরিকশা বা রিকশা না চলায় বাড়ি থেকে তিন-চার কিলোমিটার পথ হেঁটে কাদা মাড়িয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসতে যেতে হয়।
দুর্গাপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর জাগো নিউজকে জানান, রাস্তাটি খারাপ থাকায় ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনা দিয়ে ঠাকুরাকোনা-কলমাকান্দা সড়ক হয়ে মালামাল নিয়ে দুর্গাপুরে যেতে হয়। এজন্য ৫৫ কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরতে হয় তাদের। এ কারণে পরিবহন খরচও দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের ।
দুর্গাপুরের এমপির মোড় এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে জানান, দুর্গাপুরের সাংসদ ছবি বিশ্বাস আর পূর্বধলার সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেনকে এই রাস্তা দিয়ে কখনোই আসতে হয় না। তাই এলাকার মানুষের কষ্ট তারা বোঝেন না।
দুর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান জানান, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য এপ্রিলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।’
নেত্রকোনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান জাগো নিউজকে জানান, সড়কটি নতুন করে পরিকল্পনা করে নির্মাণের জন্য ৩১৬ কোটি টাকা খরচের বাজেট ধরে জানুয়ারিতে একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি টিম রাস্তার বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে গেছে। আর ঈদ উপলক্ষে সড়কটিতে যাতায়তের জন্য দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এসএস/এবিএস