টঙ্গীতে জোড়া খুন : মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ৫
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সোমবার রাতে তাদের সাভার থানার ডেন্ডাবর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, এরশাদ নগর এলাকার তমিজ উদ্দিন শেখের ছেলে ও মূল পরিকল্পনাকারী কামরুল ইসলাম কামু (৪৫), দত্তপাড়া এলাকার জালাল হোসেনের ছেলে মোবারক হোসেন (৩২), এরশাদ নগর এলাকার রুস্তম মিয়ার ছেলে মো. সাগর (২০), একই এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে মো. নাজমুল (১৮) ও একই এলাকার রহম আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৫)।
র্যাব-১ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউল ইসলামের নেতৃত্বে সাভার থানার ডেন্ডাবর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে টঙ্গী এরশাদ নগরের জোড়া খুনসহ ২০ মামলার আসামি এবং ৩৪ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত এরশাদ নগরের ত্রাস কামু বাহিনীর প্রধান মো. কামরুল ইসলাম কামুসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জোড়া খুনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
র্যাবের জিজ্ঞসাবাদে তারা জানায়, মাদকের টাকা ভাগাভাগি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নিহত শরীফ প্রভাব খাটিয়ে কামুকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। এই হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে ঘটনার কিছু দিন আগে কামরুল ইসলাম কামু তার সহযোগী হিরা, নাজমুল, মোহাম্মদ আলী, রাসেল, সাগর এবং শামীমকে নিয়ে শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
কিলিং মিশনের সদস্য মোবারক জানায়, প্রায় এক থেকে দেড় বছর আগে মোবারকের মা-বাবাকে নিহত শরীফ মারধর করেছিল। উক্ত মারধরের প্রতিশোধ নেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কামরুল ইসলাম কামু তাকে ঘটনার দুইদিন আগে ফোন করে মোল্লা বাড়ির নামায় যেতে বলে।
তখন কামু বলে “আমি লোকজন (হাসান, শামীম, হীরা, নাজমুল, সাগর বাদশা, আলী ও জালাল) দেই তোরা সবাই মিলে কাজ করে ফেল”। কামুর সহযোগী হীরা সোনিয়া নামের একটি মেয়েকে ঘটনার রাতে সেখানে নিয়েও আসে।
সে অনুযায়ী খুনের ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে হীরা শরীফকে ফোন করে বলে একটা মেয়ে ঘটিত ব্যাপার হয়েছে এবং শরীফকে তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে আসতে বলে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হাসান ও শামীম রাত সাড়ে বারটার দিকে শরীফের বাসায় মাদক সেবনের পর শরীফ ও জুম্মনসহ বের হয়ে আসে।
শরীফ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলা অবস্থায় কামুর সহযোগীরা শরীফকে ঘিরে ফেলে। এসময় শরীফ সোনিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোবারক প্রথমে শরীফকে ডেগার দিয়ে কুপিয়ে আহত করে এবং পাশে লুকিয়ে থাকা হীরা চাপাতি দিয়ে তার গলা বরাবর কোপ দেয়। লুকিয়ে থাকা অন্যান্য আসামীরাও এসে শরীফকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে।
শরীফকে কোপানো দেখে সোনিয়া ও জুম্মন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় ইয়াছিন, নাজমুল ও সাগর জুম্মনের পিছনে ধাওয়া করার পর মোল্লাবাড়ীর গেইটে জুম্মন পড়ে গেলে তাকে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্যমতে গত রাতে টংগী থানাধীন এরশাদ নগরের দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলিম মিয়ার বাড়ির পাশের ডোবা থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ৩টি সামুরাই ও ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে র্যাব কর্তৃক ইতোপূর্বে গত ১৬ মে গ্রেফতারকৃত আসামি কাজল এবং সোনিয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে রাতে টঙ্গীতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে টঙ্গী এরশাদ নগর পুর্নবাসন এলাকার ৪ নম্বর ব্লকের আলা মিয়ার ছেলে শরিফ (৩৫) ও হারুন মিয়ার ছেলে জুম্মন (২৫) কে হত্যা করে দুবৃর্ত্তরা। পরে তাদের মরদেহ এরশাদ নগরের পূর্ব পাশে চানকির বিল এলাকায় ফেলে রাখে।
নিহত শরিফ শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের ৪৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন এবং নিহত জুম্মন একটি ক্যাপ তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন।
আমিনুল ইসলাম/এফএ/এবিএস