অস্তিত্ব সংকটে যশোরের ঐতিহ্যবাহী চারুপীঠ
যশোরের ঐতিহ্যবাহী চারুকলা প্রতিষ্ঠান চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের জায়গার পরিধি সংকুচিত হয়ে আসছে। পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন করে জমি বন্দোবস্ত না দেয়ায় গবেষণাধর্মী এই প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে।
এতে সাড়ে ৫ শতক জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। আর ত্রিশ বছর ধরে দখলে থাকা জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে উন্মুক্ত করে দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চারুপীঠের কর্মকর্তারা।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন করে চারুপীঠকে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে না। উন্মুক্ত ওই জায়গায় নতুন সংগঠনকে বরাদ্দ দেয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন করে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার চারুপীঠ সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে যশোরের বিভিন্নি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন।
চারুপীঠের সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান শহীদ, সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, সনাকের সদস্য অ্যাড. মোয়াজ্জেম হোসেন টুলু, দৈনিক স্পন্দনের বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদ, বাংলাদেশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে (বিএফইউজে) সদস্য প্রণব দাস, মামুনুর রশিদ প্রমুখ।
চারুপীঠের সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান, শিল্পী এসএস সুলতানের অনুপ্রেরণায় যশোরে চারুকলা প্রতিষ্ঠান চারুপীঠ স্থাপন করা হয়। চারুপীঠকে স্থায়ীভাবে রূপদানের জন্য ১৯৮৮ সালে যশোর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান খালেদুর রহমান টিটো ও কমিশনারগণ স্ব-প্রণোদিত হয়ে পৌরসভার জলকল ভবনে (বর্তমান পৌরসভা অফিস) চারুপীঠ পরিচালনার জন্য জায়গা প্রদান করেন।
১৯৯০ সালে প্রশাসক রফিউদ্দিন ভূঁইয়া আন্তরিক হয়ে তৎকালীন পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসহাক ও কমিশনারগণের ঐক্যমতে পৌর উদ্যান সংলগ্ন ছেড়ে যাওয়া যুব উন্নয়ন ভবন ও সংলগ্ন জমিতে চারুপীঠের প্রধান কার্যালয়ের জন্য স্থায়ী বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। চারুপীঠের আবেদনে পরিপ্রেক্ষিতে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় ৫৩ শতক জমিদানের অনুমোদন করেন।
চারুপীঠের শিল্পীরা কঠোর পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে চারপীঠ অঙ্গণকে শৈল্পিক নৈসর্গিক রূপদান করেছেন। যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ৫৩ শতকের পরিবর্তে পুরনো ভবনটির সাড়ে ৫ শতক জমি চারুপীঠের নামে দলিল করেছে। চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইন্সটিটিটের পূর্ণাঙ্গ রূপদানে পরিকল্পিত নতুন ভবনটির জন্য বর্ধিত পরিসরে জমির প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর ভেঙে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সেখানে পৌরসভার পরিত্যক্ত গাড়ি রাখা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে চারুপীঠ প্রাঙ্গণ, তেমনি সৌন্দর্য হারিয়েছে। অবিলম্বে চারুপীঠ সুরক্ষায় পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, চারুপীঠের জন্য নতুন করে জায়গা বরাদ্দের সুযোগ নেই। বরাদ্দের সাড়ে ৫ শতক জায়গায় তারা ঠিক মতো ব্যবহার করে না। পুরনো প্রাচীর ভেঙে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সিভিল সার্জনের অফিসের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। চারুপীঠের সামনের প্রায় ৩০ ফুট জায়গা ব্যবহার হয় না। অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন আবেদন করেছে। ওই জায়গা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হবে।
মিলন রহমান/এসএস/এবিএস