শেষ বয়সে সরকারি ঘর পেলেও থাকা হলো না বীরাঙ্গনা যোগমায়ার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

শরীয়তপুরের বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। বিকেলে তার অন্তিম যাত্রার আগে গার্ড অব অনার প্রদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন।

যোগমায়া মালোর পরিবার ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২২ মে শরীয়তপুর সদরের মনোহর বাজারের দক্ষিণ মধ্যপাড়ার হিন্দু এলাকায় তাণ্ডব চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। প্রতিটি ঘর থেকে তুলে আনা হয় হিন্দু যুবতী নারী পুরুষ আর গৃহবধুদের। সেদিন সবার সঙ্গে তুলে আনা হয় নেপাল চন্দ্র মালোর স্ত্রী যোগমায়া মালোকে। তখন ১৫ বছরের কিশোরী গৃহবধূ ছিলেন তিনি। পরে বেশ কয়েকজনকে মধ্যপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করার পর, অন্তত ১০০ জন নারী-পুরুষকে ধরে লঞ্চে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুরের এআর হাওলাদার জুট মিলে।

শেষ বয়সে সরকারি ঘর পেলেও থাকা হলো না বীরাঙ্গনা যোগমায়ার

সেখানে পুরুষদের অনেককেই গুলি করে হত্যা করা হয়। আর নারীদের ৩ দিন ৩ রাত আটকে রেখে চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। সেই নির্যাতন শেষে ছাড়া পেয়ে যোগমায়া মালো ফিরে আসেন স্বামীর কাছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর ২০১৮ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেছে তার। তবে মনের ক্ষত বয়ে বেড়ানো এই বীরাঙ্গনা নারীর ছিল না থাকার ঘর। বিষয়টি নিয়ে গত বছর ১৯ ডিসেম্বর ,‘আজও নিজের একটা ঠিকানা হলো না বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালোর,’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে জাগো নিউজ। পরে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৫ ডিসেম্বর (সোমবার) সরকারিভাবে পাঁকা ঘর করে দেন জেলা প্রশাসন। এরপর সেই ঘরে কিছুদিন পরিবারের সান্নিধ্যে সময় কাটিয়েছিলেন তিনি।

যোগমায়া মালোর মেয়ের জামাই সুভাষ দাড়িয়া বলেন, আমার শাশুড়ি বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো আজ দুপুর ২ টার দিকে ইহলোকে ত্যাগ করেছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন। ইউএনও এসে তার অন্তিম যাত্রায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, আমরা আসলে মর্মাহত। বীরাঙ্গনা যোগমায় মালোর জন্য কিছুদিন আগে একটি সরকারি ঘর দিয়েছিলাম। তিনি সেখানে কয়েকদিন ছিলেন। আজ তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আমরা তাকে সসম্মানে বিদায় জানিয়েছি। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদান, ত্যাগস্বীকার জেলাবাসী সব সময় মনে রাখবে।

বিধান মজুমদার অনি/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।