পিইডিপি-৪ প্রকল্প

ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দুদকের মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পরিচালিত এ প্রকল্পে ভুয়া শিক্ষার্থী ও ভুয়া শিখনকেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. আল মামুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার আসামিরা হলেন আয়েশা আক্তার, গাউসুল আজম, মোখছেদ আলী, কাজী মনোয়ারুল হাসান, টুকটুক তালুকদার, ডা. হাসান আলী, নীলিমা জাহান, আনোয়ার আলী, জান্নাত আরা তিথি, আবুল হায়াত, শামিমা আক্তার জাহান, অরুণ চন্দ্র রায় ও তৌহিদা মোহতামিম। এদের মধ্যে তিনজন এনজিও কর্মী। এছাড়া রাজশাহী এডিসি শিক্ষা ও আইসিটি টুকটুক তালুকদারসহ অন্যরা সরকারি কর্মচারী।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে বাস্তবে তা সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। প্রকৃত যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে জরিপ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, মোট এক হাজার ৬৫৭ জন ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে কাগজে-কলমে ৫৫টি উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় বা শিখনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা দেখানো হয়, যা বাস্তবে চালু ছিল না। এসব ভুয়া শিখনকেন্দ্রের নামে শিক্ষক বেতন, প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের পোশাক ও স্কুল ব্যাগ, শিখনকেন্দ্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা খরচসহ বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, প্রকল্পের চুক্তিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে শিক্ষক বেতন বাবদ প্রায় এক কোটি ৩২ লাখ টাকা, প্রশিক্ষণ খাতে ৩৪ লাখ টাকার বেশি, পোশাক ও স্কুল ব্যাগ বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খরচসহ মোট তিন কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অর্থ আত্মসাতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা, সহযোগী এনজিও এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক আরও জানায়, ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রকৃত যাচাই না করেই সব কার্যক্রম সন্তোষজনক উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেন। এর ফলে ভুয়া শিক্ষার্থী ও ভুয়া শিখনকেন্দ্রের তথ্য বৈধতা পায় এবং অর্থ আত্মসাৎ সহজ হয়।

দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. আল মামুন বলেন, মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্তকালে যদি আরও কারোর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।