বর্ণিল হয়ে উঠছে রাঙামাটি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বর্ণিল হয়ে উঠছে পার্বত্য জনপদ রাঙামাটি। নগরীতে চলছে ধোয়ামুছাসহ পরিচ্ছন্নতার কাজ। সাজানো হচ্ছে সরকারি বেসরকারি স্থাপনাগুলো। পর্যটক বরণে প্রস্তুত স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষগুলো। সরেজমিন ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
দেখা যায়, ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে সরকারি পর্যটন বিভাগের পাশাপাশি পর্যটকদের বিনোদনের জন্য বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত বেসরকারি পর্যটন স্পট ও আবাসিক হোটেল, মোটেলগুলো। এ উপলক্ষে প্রস্তুতি প্রায় শেষ বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সরকারি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে রাঙামাটি পৌরসভার উদ্যোগে। নগরী সাজানো হচ্ছে নতুন রুপে। নগরের অলিগলি, হাটবাজার, মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী।
মেয়রের নেতৃত্বে শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী শহরের হাটবাজার বিশেষ করে বৃহত্তর বনরূপাসহ কাঁচাবাজারগুলোতে সরেজমিন ময়লা-আবর্জনা অপসারণের জন্য বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এসময় ময়লা-আবর্জনা ফেলতে বনরূপা কাঁচাবাজারসহ শহরের বাজারে বাজারে বিতরণ করা হয় ডাস্টবিন ড্রাম।
এসময় পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, পৌর এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমরা সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারণ এটি একটি পর্যটন শহর। তাই শহরটিকে সব সময় ময়লা-আবর্জনামুক্ত রেখে এর সৌন্দর্য বজায় রাখতে হবে। এজন্য ব্যবসায়ী মহলসহ শহরবাসী সবাইকে সচেষ্ট থাকা দরকার। এজন্য বাজার এলাকায় পৌরসভা হতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ড্রাম বিতরণ ও স্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পৌর এলাকা পৌরবাসী সবার। এটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও সবার। তিনি পৌরবাসীকে সচেতনতার সঙ্গে ডাস্টবিন ড্রাম ব্যবহার করে নগরীর সৌন্দর্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে সরজেমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্ষা-বাদল উপেক্ষা করে থেমে নেই ঈদের প্রস্তুতি। রাস্তাঘাটে চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাকরণ। সরকারি বেসরকারি ভবন, স্থাপনা ও বাড়িঘরে চলছে ধোয়া-মুছা। সরকারিভাবে ঈদ আয়োজন চলছে জেলা প্রশাসকের বাংলোতে। সেজন্য কাপ্তাই লেক ঘেঁষে স্থাপিত জেলা প্রশাসক বাংলো ও ব্রিজটি সাজানো হয়েছে বর্ণিল রঙে। করা হয়েছে সাজসজ্জাকরণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।
জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ঈদ প্রস্তুতি সম্পন্ন। ইতোমধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ সরকারি ভবন ও স্থাপনাগুলোতে চলছে সাজসজ্জাকরণ।
সবকিছু মিলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসব ঘিরে নতুন রুপে সাজতে শুরু করেছে পর্যটন নগরী রাঙামাটি। নগরজুড়ে হয়ে উঠছে বর্ণিল। সরকারি পর্যটন মোটেলসহ শহরের সবগুলো আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউজ, রেস্তোরায় নেয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের প্রস্তুতি। পাশাপাশি ঈদে আগত পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পর্যটন কর্তৃপক্ষ। সাজানো হচ্ছে প্রশাসনিক ভবনসহ সরকারি স্থাপনাগুলো। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নেয়া হয়েছে ঈদ জামায়াতের আয়োজন প্রস্তুতি।
এছাড়া বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এবং আনন্দঘন পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। উৎসবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শহরের বিভিন্ন স্তরে থাকবে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর টহল।
জেলা প্রশাসন জানায়, ঈদের দিন সকালে শহরের পাঁচটি স্থানে অনুষ্ঠিত হবে ঈদ জামায়াত। সেগুলো হচ্ছে- তবলছড়ি কেন্দ্রীয় ঈদ জামায়াত, রিজার্ভবাজার পুরাতন কোর্টবিল্ডিং ঈদ জামায়াত, বনরূপা আদালত ভবন ঈদ জামায়াত, ভেদভেদী আমানতবাগ মাঠ ঈদ জামায়াত ও পুরাণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ঈদ জামায়াত। এছাড়া শহরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে রাঙামাটির নারী এমপি ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, রাঙামাটি রিজিয়ন সদর দফতর ও পৌরসভা মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষ সর্বস্তরের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা, রাঙামাটির এমপি ঊষাতন তালুকদার, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঈদ উপলক্ষে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাঙামাটি সরকারি পর্যটন মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, অতিথিদের স্বাগত জানাতে তাদের সরকারি পর্যটন মোটেলে সব ধরনের আয়োজন ও প্রস্তুতি শেষ। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে যা যা করার সবকিছুর আয়োজন করা হয়েছে।
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ জানান, ঈদ অবকাশে আগত পর্যটকদের স্বাগত জানাতে শহরের আবাসিক হোটেল মোটেলগুলো প্রস্তুত।
এফএ/আরআইপি