ঈদের ছুটিতে মেঘ পাহাড় বান্দরবান


প্রকাশিত: ০৫:৪৪ এএম, ০৩ জুলাই ২০১৬

সুনসান নির্জনতা, দূরে কোথাও অপরিচিত পাখির ডাক, পাহাড় আর মেঘের মিতালি দেখতে কে না ভালবাসে। শত ব্যস্ততার মধ্যে দু`দণ্ড শান্তির জন্য নির্জন প্রকৃতির কোলে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে চান যে কেউ। আর দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় ও অসংখ্য ঝরনাধারা দেখতে চাইলে ঈদের ছুটিতে আসতে পারেন প্রকৃতির অপূর্ব লীলাভূমি বান্দরবান। এ জেলাতেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া তাজিং ডং এবং কেওক্রাডং পাহাড় অবস্থিত।
 
প্রাকৃতিক জলাশয় বগালেক : পাহাড় চূড়ায় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উঁচুতে প্রাকৃতিক লেক- বগালেক মোহিত করবে আপনাকে। প্রাকৃতিক এ লেকের স্বচ্ছ পানি, দৃষ্টি নন্দন প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনার পথের ক্লান্তিকে দূর করবে।

Nilachal-
 
আর যারা পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে চান, হাঁটতে চান না বা পরিশ্রমকে ভয় পান তাদের জন্য বান্দরবান শহরের আশে পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্পট। পাহাড়ের চূড়ায় বৌদ্ধ মন্দির (স্বর্ণ মন্দির), মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, শৈলপ্রপাত, রিঝুক ঝর্ণা, নীলাচল, নীলগিরি পাহাড় ঘুরে দেখতে পারেন।
 
নীলগিরি : মেঘের স্পর্শ পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে নীলাচল অথবা নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার পাঁচশ ফুট এর উচ্চতা। পর্যটকের হাতের মুঠোর ফাঁক দিয়ে ঘুরে বেড়ায় মেঘদল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এটি তত্ববধান করেন। এখানে রাত্রি যাপন ব্যয়বহুল। রাত্রিযাপনের জন্য আপনাকে তিন-চার মাস আগে থেকেই বুকিং দিতে হবে।

Bandarban

নীলাচল : জেলা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দু্ই হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় নীলাচল অবস্থিত। গাড়ি এবং পায়ে হেঁটেও সহজে নীলাচলে যাওয়া যায়। পর্যটকের সুবিধার জন্য নীলাচলে নির্মাণ করা হয়েছে আকর্ষণীয় ওয়াচ টাওয়ার। রাত্রিযাপনের জন্য তৈরি করা হয়েছে মনোমুগ্ধতর কয়েকটি কটেজও।

চিম্বুক বাংলার দার্জিলিং :চিম্বুককে বলা হয় পাহাড়ের রানী। শহর থেকে মাত্র ২৬ কি.মি. দূরে অবস্থিত বান্দরবানের সবচেয়ে সুপরিচিত ট্যুরিষ্ট স্পটের একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার পাঁচশ ফুট এর উচ্চতা। বর্ষায় চিম্বুক পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মেঘ স্পর্শ করা যায়। চিম্বুক পাহাড়কে ঘিরেই পাহাড়ী মুরুং (ম্রো) জনগোষ্ঠীর বসবাস।

এছাড়াও আপনি যেতে পারেন থানচি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র তিন্দু, রেমাক্রি, নাফাকুম, ছোটমদক, বড়মদক। তবে বান্দরবানের আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান বৌদ্ধ ধাতু জাদি যেটা পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

Bandarban

যদি যেতে চান বান্দরবানে : ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে শ্যামলী, হানিফ, ঈগল, সৌদিয়াসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনের গাড়ি কলাবাগান, ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যায়। বান্দরবান থেকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে যাবার জন্য ভাড়ায় গাড়ি পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের জীপ এবং চান্দের গাড়ি বাস টার্মিনালের কাছেই পর্যটকদের জন্য সার বেধেঁ অপেক্ষমান থাকে সকাল থেকে।

কোথায় থাকবেন : বান্দরবান শহরে এখন বেশ কিছু ভাল ও মাঝারি মানের আবাসিক হোটেল হয়েছে। রয়েছে পাহাড়ের মাঝখানে ছোট ছোট কটেজ। এছাড়াও রাত্রিযাপনের জন্য বান্দরবান শহর ছাড়াও রুমা উপজেলার বগালেকে রয়েছে আদিবাসী গ্রাম। থানচি বাজারের পর আপনি যেখানেই যাবেন আপনাকে কারবারি (গ্রাম প্রধান) বা কারো বাড়িতে থাকতে হবে।

এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।