ভিসা-টিকিট থাকলেও বোর্ডিং পাস মিলছে না যুক্তরাজ্যগামী যাত্রীদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিলেট
প্রকাশিত: ১১:১৩ এএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বৈধ ভিসা, নিশ্চিত টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও যুক্তরাজ্যগামী অনেক যাত্রীকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হচ্ছে না। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০ জন যাত্রী চেক-ইন কাউন্টার থেকেই ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরও অনেক যাত্রী।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বোর্ডিং পাস ইস্যুর সময় এয়ারলাইন্সের কম্পিউটার স্ক্রিনে ‘চেক ইন রেসট্রিকটেড, কনট্রাক্ট ইউকে বর্ডার ফোর্স’ লেখা বার্তা দেখাচ্ছে। এরপর আর বোর্ডিং পাস দেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রবাসফেরত যাত্রীরা বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকে পরিবার রেখে দেশে এসে আটকা পড়ায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়। যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিস্টেমজনিত জটিলতার কারণে এমনটি ঘটছে। তবে বিষয়টি সমাধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কাজ করছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের চেক-ইনের সময় গত এক সপ্তাহ ধরে ওই বার্তা দেখা যাচ্ছে। ফলে যাত্রীদের যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ যাত্রীরা বলছেন, তাদের ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বৈধ। অনেকের যুক্তরাজ্যের ই-ভিসাও রয়েছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন বা ই-ভিসা প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের সঙ্গে এই জটিলতার সম্পর্ক থাকতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকার ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (যেমন বিআরপি কার্ড) বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ই-ভিসা চালু করছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় মাইগ্রেট করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে আপডেট না করায় যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া এয়ারলাইন্সগুলো ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ (আইএপিআই) সিস্টেম ব্যবহার করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় যাত্রীর স্ট্যাটাস আপডেট থাকলেও সার্ভার বা ডেটা সমন্বয়ের জটিলতায় কাউন্টারে ভুল তথ্য দেখাতে পারে।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, এটা সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব কোনো সমস্যা নয়। বিষয়টি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সমাধান করবে। এ নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

হাফিজ আহমদ আরও বলেন, এটাকে রেসট্রিকশন বলবো না। হয়তো তাদের বর্ডার ফোর্সের বিষয় হতে পারে বা সিস্টেম আপগ্রেডেশনের কারণে এমন হচ্ছে। আপাতত ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আহমেদ জামিল/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।