চাঁদপুর-৪
কোন্দলে ভাগ হবে বিএনপির ভোট, সুযোগ নিতে মরিয়া জামায়াত
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই আসনটি। বিশেষ করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। তবে একই দলের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক উপজেলা আহ্বায়ক এম এ হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিভাজনের সুযোগ নিতে মাঠে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী নিয়মিত গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চাঁদপুর-৪ আসনে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিএনপির দুই প্রার্থীর পারস্পরিক দ্বন্দ্বে জামায়াতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৯১ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৭ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৯১ হাজার ৩৭৬ জন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৮টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৩৭টি।
শিমুল হাসান নামের একজন ভোটার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনি পরিবেশ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’
চাঁদপুর-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও পরবর্তী তিনটি নির্বাচন—২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করে। এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে নাকি পুরোনো সমীকরণে পরিবর্তন আসবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ হান্নান অভিযোগ করে বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকরা তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী বলেন, ‘আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। কেউ যদি কেন্দ্র দখল বা ভোট কারচুপির চেষ্টা করে, জনগণ তা মেনে নেবে না। এবার ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন।’
বিএনপি প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিএনপি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। সততা, যোগ্যতা ও মানুষের সেবার মাধ্যমে রাজনীতি করাই আমাদের লক্ষ্য। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এসআর/এএসএম