পাহাড়ে শান্তি আর সম্প্রীতির মেলবন্ধন ঈদ-উল-ফিতর


প্রকাশিত: ০৭:০৭ এএম, ০৬ জুলাই ২০১৬

বছর ঘুরে আবারো মুসলমানদের দুয়ারে এসেছে ‘ঈদ-উল-ফিতর’। সেই সঙ্গে শেষ হতে চলেছে এক মাসের সিয়াম-সাধনারও। মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘ঈদ-উল-ফিতর’ উদযাপনে প্রস্তুত পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির মানুষ। ধনী-গরীব সবার ঘরেই বাজতে শুরু করেছে আনন্দের ধা-মা-মা। সেই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে প্রস্তুত জেলার পর্যটন স্পটগুলো। সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে মুছে সাজানো হচ্ছে- জেলার আবাসিক হোটেলগুলো।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর মাত্র একদিন পরই প্রতিটি জনপদে বেজে উঠবে ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। আর এ গানের সুরে মিশে যাবে ধনী-গরীব আর উঁচু-নিচুর সব ভেদাভেদ।

সারা বিশ্বের মুসলমানের জন্য ‘ঈদ-উল-ফিতর’ উৎসবের আবশ্যকীয় একটি অংশ। চিরাচরিত নিয়মে এক মাস সিয়াম-সাধনা শেষে শাওয়াল মাসের বাঁকা চাঁদ নিয়ে সমাগত হয় ‘ঈদ-উল-ফিতর’। বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বে দেশের প্রায় এক দশমাংশ ভূ-খণ্ড জুড়ে আছে পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি আর বান্দরবান। যেখানে বাংলা ভাষা-ভাষীদের পাশাপাশি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ ছোট ছোট ১৩টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বসবাস। চাকমা-মারমা-ত্রিপুরাদের বৈসাবির পাশাপাশি মুসলমানদের ঈদ উৎসব পালনের দৃশ্যপট সমতলের অন্যান্য জেলার চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন।

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এ স্লোগানকে বুকে ধারণ করে যে কোনো উৎসব ভিন্ন আমেজে পালিত হয় পাহাড়ে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। এখানে উৎসব পালনে থাকে না কোনো ভেদাভেদ। উৎসব মানেই আনন্দ আর আনন্দ মানে একে অন্যের বাড়িতে ছুটা ছুটি। এখানে ধনী-গরীব, স্বজন-প্রতিবেশি সবাই একাকার হয়ে যায় উৎসব পালনে। এখানে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে শীর্ষ নেতারা পাশাপাশি দাঁড়িইে ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করবেন। তৈরি করবেন শান্তি আর সম্প্রীতির মেলবন্ধন।

বরাবরের মতোই উৎসবকে সামনে রেখে জেলাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ চৌধুরী বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদ উৎসব ভাগাভাগি করাটা এ জনপদের ঐতিহ্য। এক মাসের সিয়াম সাধনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এ জনপড়ে ‘ঐক্যের ভীত’ রচনা করবো। এ উৎসবের মধ্যেদিয়ে পরস্পরের প্রতি ভাতৃত্ববোধ সৃষ্টির মধ্যদিয়ে ঐক্য সৃষ্টি করবো।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কংজরী চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়াও ঈদ উৎসবে মেতে ওঠবে পাহাড়ি জাতি গোষ্ঠিসহ অন্য সব ধর্ম-বর্ণ, ও সম্প্রদায়ের লোকজন। উৎসব পরিণত হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন মেলায়। জাতিতে জাতিতে, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে ঘটবে ভালোবাসার মেলবন্ধন।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।