ময়মনসিংহ-২

ধানের শীষ-ঘোড়ার ভোট ভাগাভাগিতে সুযোগ নিতে চায় রিকশা

মো. কামরুজ্জামান মিন্টু মো. কামরুজ্জামান মিন্টু , জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-২ আসন। গণঅভ্যুত্থানের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এই আসনে বিএনপি, স্বতন্ত্র ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

আসনটিতে থেকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করায় দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। এবারও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচন করছেন। পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ নির্বাচনি মাঠ সরগরম করে রেখেছেন।

এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন আরও চারজন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গোলাম মাওলা ভূঁইয়া (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমদাদুল হক খান (লাঙল), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বি এস পি) প্রার্থী মো. জুলহাস উদ্দিন শেখ (একতারা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক (কলস)।

গত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৯ বার, বিএনপির প্রার্থী ২ বার এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী ১ বার সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রার্থীরা ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে সামাজিক নানান কর্মকাণ্ডে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা।

তবে এবার বুঝেশুনে হিসাব কষে ভোট দিতে চান ভোটাররা। যিনি ক্লিন ইমেজের নেতা, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হননি, সেরকম প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন বলে জানান ভোটাররা।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ময়মনসিংহ-২ আসনে ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটিগুলো বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার অনুমোদন দিয়েছেন। তার বলয়ে রাজনীতি করছেন বেশিরভাগ নেতা। তবে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী কিছু নেতা মোতাহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের রয়েছে আলাদা ভোটব্যাংক। বহিষ্কারের আশঙ্কায় তারা গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের পক্ষে অবস্থান নিলেও গোপনে ভোট চাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ারের পক্ষে। এমন অবস্থায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ভোটব্যাংক কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ নির্বাচনি এলাকায় নিজের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ও স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ারের লড়াইয়ের মধ্যেই রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর পক্ষে চলে আসছেন ভোটাররা। ফলে এই তিন প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরাও বসে নেই। তারা নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। গণসংযোগ করে উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাচ্ছেন।

স্থানীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫১ জন, নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার ৭১৩ জন ও হিজড়া ভোটার রয়েছে ৩ জন। এই দুই উপজেলার ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমার ওপর আস্থা রেখেছে। সামাজিকভাবেও আমার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সব প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হব বলে আশা করছি। কারণ, যে এলাকাতেই যাচ্ছি, ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ার বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমাকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে আমার পক্ষে কাজ করা অনেককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমার জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের একত্র করে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু রাজপথ থেকে সরে যাইনি। বেশিরভাগ ভোটাররা আমাকেই ভোট দেবে বলে প্রত্যাশা করছি। নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে দেওয়া হবে নির্বাচনি এলাকার চিত্র।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে। পুলিশ নির্বাচনি এলাকায় সতর্ক অবস্থানে থাকবে। আশা করছি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।