সূত্রাপুর থানার ওসির অপসারণ চান ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন/ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচন ঘিরে পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ তুলে রাজধানীর সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমানের অপসারণ চেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি তুলে ধরেন ইশরাক।

সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগগুলো কমিশনের কাছে মৌখিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি কমিশনের অভিযোগ নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে। তারা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে বলে তাকে জানিয়েছে।

ইশরাক অভিযোগ করেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র এলাকা থেকে ১৫২টি ক্রিকেট স্টাম্প উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নির্বাচনি পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের মালিকানাধীন এবং সেখানে একটি ক্লাবের আড়ালে এসব সামগ্রী রাখা হয়েছিল। পরে দরজা ভেঙে স্টাম্পগুলো উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, লাঠিসোঁটা মজুতের তথ্য পাওয়ার পর সূত্রাপুর থানা-পুলিশকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধু প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। তার অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পিকআপ ভ্যানে করে বড় বস্তায় ভরে লাঠিসোঁটা সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিএনপি প্রার্থী জানান, ওই কেন্দ্র ঘিরে আগে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার অভিযোগও ছিল। এখন পরিস্থিতি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরবর্তীতে কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ক্লাব থেকে ক্রিকেট স্টাম্প উদ্ধার করে।

ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবির বিষয়ে ইশরাক বলেন, কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সে কারণেই কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশন আইন ও সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সূত্রাপুর থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ওসি ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত হননি। এতে একটি সময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে লাঠিসোঁটা ও সম্ভাব্য অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে ইশরাকের নির্বাচনি সমন্বয়কারী সাইদুর রহমান মিন্টুও একই দাবিগুলো তুলে ধরেন।

এমডিএএ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।