সিদ্ধিরগঞ্জে মুক্তিপণের টাকাসহ অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার
মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকাসহ আন্তর্জাতিক অপহরণ চক্রের দুই নারী সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সদস্যরা।
অপহরণকারীরা হলেন, মূলহোতা মনজুর মোল্লার স্ত্রী রুবী (২৫), সহযোগী মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও শ্যালীকা রাহিমা (২২)। তাদের গাজীপুরের কালীগঞ্জের ফুলদি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে র্যাবের চাপে সৌদি আরবে অপহৃত শফিকুল ইসলামকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে অপহরণকারীরা।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব-১১ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে অপহরণ ও অপহরণকারীদের গ্রেফতারের বিবরণ তুলে ধরেন র্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেঃ কর্নেল কামরুল হাসান (পিএসসি)। 
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপহরণ চক্রের মূল হোতা মনজুর মোল্লা (৩৫), তার সহযোগী খায়রুল ইসলাম (৪০), আলমগীর (৩০), মো. জাকির হোসেন (৩২) দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্নভাবে ছলে বলে কৌশলে বাংলাদেশ থেকে গমনকৃত সৌদি প্রবাসীদেরকে অপহরণ করে জিম্মি করে থাকে। এই ধারাবাহিকতায় তারা ২ জুলাই মো. শফিকুল ইসলাম খোকন (৩৮) নামে সৌদি আরবের এক ট্যাক্সিচালককে সৌদী আরবের রিয়াদের রামাদি থানা এলাকা থেকে ট্যাক্সি ভাড়ার এক পর্যায়ে অপহরণ করে। পরে ওই অপহরণকারীরা সৌদি আরবের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে তাকে আটকিয়ে হাত-পা এবং মুখ বেঁধে নির্যাতন চালায়। পরে তারা ফোন করে শফিকুলের স্ত্রী জহুরা বেগমকে জানায়। এমনকি অপহরণকারীরা শফিকুলের উপর করা নির্যাতনের ছবি ইমোর মাধ্যমে ‘এলন বয়’ আইডি থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে শফিকুলের স্ত্রীকে দেখায়। অপহরণকারীরা শফিকুলের স্ত্রীকে ০১৯১২০৩৫৬৭৪ মোবাইল নাম্বারে পাঁচ লাখ টাকা এবং ০১৭৭৭৭৫৪৩৮০ মোবাইল নাম্বারে ১৫ লাখ টাকা বিকাশ করতে বলে। বিকাশ না করলে শফিকুলকে হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা।
শফিকুলের স্ত্রী তাদেরকে মুক্তিপণের টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে এ ব্যাপারে কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানায় একটি জিডি (নং-৬৫) এন্ট্রি করে জিডির কপি র্যাব-১১ এর আদমজীস্থ সদর কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে র্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নরেশ চাকমা ও এএসপি মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা ৫ জুলাই থেকে ৬ জুলাই বিকেল পর্যন্ত গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদি এবং জাংলা ইউনিয়নের জাংলা বাজারের এলাকা থেকে সৌদিতে অপহরণকারী দলের মূল হোতা মনজুর মোল্লার স্ত্রী রুবী (২৫), সহযোগী মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও শ্যালীকা রাহিমাকে (২২) গ্রেফতার করে। এসময় মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকাও উদ্ধার করে র্যাব। 
পরবর্তীতে র্যাব সদস্যরা এ ব্যাপারে সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সৌদি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ অপহরণকারী চক্রের সদস্য জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে। একই সময় র্যাব সদস্যদের চাপে অপহরণকারীরা বুধবার বিকেলে শফিুকলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আসা শফিকুলের বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন জানায়, শফিকুল সৌদিতে ১২ বছর যাবত ট্যাক্সি চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তার সঙ্গে পরিচয় ছিল অপহরণকারী দলের সদস্য জাকির হোসেনের।
ট্যাক্সি ভাড়ার কথা বলে জাকির হোসেন ও আন্তর্জাতিক অপহরণকারী দলের সদস্য মনজুর মোল্লা তার ভাই শফিকুল ইসলামকে অপহরণ করে।
বৃহস্পতিবার ভোরে অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য রুবি, সাইফুল ইসলাম ও রাহিমাকে র্যাব-১১ এর আদমজীস্থ সদর দপ্তর থেকে কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১১।
হোসেন চিশতী সিপলু/এমএএস/এমএস