নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটনে স্থবিরতা

সায়ীদ আলমগীর
সায়ীদ আলমগীর সায়ীদ আলমগীর কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৫:৫৭ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এবারে মৌসুম শেষ হবার আগেই পর্যটনে স্থবিরতা নিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত পরিবহন চলাচলে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। ফলে সব মিলিয়ে কক্সবাজারের পর্যটনে ১০ ফেব্রুয়ারি হতে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একপ্রকার স্থবিরতা আসবে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেলগুলোতে ১০ শতাংশের কম বুকিং রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য করে পর্যটকদের ভোটের আগে কক্সবাজার আসার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

মেরিন ড্রাইভ হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, অনেক বছর পর দেশে স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সব পেশার মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ছুটছেন। এদের মাঝে হোটেল কর্মজীবীও রয়েছেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, যানবাহন চলাচলেও বাধ্যবাদকতা জারি করা হবে। কক্সবাজারে এসে ঘুরতে না পারলে বেড়াতে আসাটাই বৃথা।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, এরইমধ্যে দেখতে পেয়েছি রাষ্ট্রীয়ভাবে মঙ্গলবার রাত হতে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, কার, মাইক্রো, পিক-আপ ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কক্সবাজারেও সেসব পরিবহনের সাথে সিএনজি, অটোরিক্সা চলাচলও সীমিত করার পাশাপাশি শহরের মোড়ে মোড়ে তল্লাশির কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। যৌথবাহিনী সেভাবে কাজও শুরু করেছে। অযৌক্তিক কারণে ভিন্ন এলাকার লোকজন পাওয়া গেলে শাস্তির আওতায় আসবে বলেও লিখিত জানানো হয়েছে। ভোগান্তি এড়াতে আমরা এতিন দিন বুকিং নিরুৎসাহিত করছি।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাব ও ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, আগে-পরের এবং নির্বাচনের দিন মিলিয়ে পর্যটন জোনের তারকা হোটেলগুলোতে ১৫-২০ শতাংশ রুমের বুকিং রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে, এদের সিংহভাগ বিদেশী নাগরিক। সাধারণ হোটেলগুলোতে বুকিং নেই বললে চলে। এরপরও কিছু লোকজন সৈকতের বেলাভূমিতে আসছে। তাদের অধিকাংশ স্থানীয় এবং আশপাশ এলাকার। পর্যটন মৌসুম শেষ হবার আগেই পর্যটন জোনে নীরবতা এনে দিয়েছে ত্রয়োদশ নির্বাচন। এরপরও আমরা খুশি-দেশের স্থিতিশীলতার এ নির্বাচন নিয়ে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের বিপনন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সোমেল বলেন, আজ থেকে তিনদিনের ফোরকাস্টে ১০-১৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। এর মাঝে অর্ধেক বিদেশী এনজিও কর্মী- যারা চাকরির খাতিরে কক্সবাজারে অবস্থান করেন। নিরাপত্তার জন্য তারা নির্বাচনের পরেরদিন পর্যন্ত হোটেলে অবস্থান করবেন। অবশ্য নিয়মানুসারে এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে জানানো রয়েছে। নির্বাচনকালীন বেড়াতে আসতে অনেক কুয়েরি আসছে- চলাচলে ভোগান্তির কথা জানিয়ে দেয়ায় অনেকে বেড়ানোর শিডিউল পরিবর্তন করছেন। আর যাদের বুকিং রয়েছে তারা হোটেল হতে বের না হওয়ার সংকল্প করেছেন।

আরেক তারকা হোটেল কক্স টুডে'র সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবু তালেব শাহ বলেন, আমাদের দুই শতাধিক রুমের বুকিং রয়েছে মাত্র ২০-২৫টি। নির্বাচনের কারণে বুকিং নিরুৎসাহিত করায় পর্যটক সংখ্যা কমেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সৈকতের বেলাভূমিতে কথা হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবিদুর রহমান দম্পতির।

তারা বলেন, নির্বাচনের পরেরদিন ফিরে যাবার চিন্তা নিয়ে সোমবার কক্সবাজার এসেছিলাম। কিন্তু আজ জানলাম রাত হতে শহরে যানচলাচল সীমিত হয়ে যাবে। তল্লাশিতে এনআইডি দেখাতে হবে এবং ভোট না দিয়ে নিজ এলাকার বাইরে থাকার সন্তোষজনক উত্তর করতে না পারলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি সংক্রান্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পত্র দেখেছি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি রাতেই ফিরে যাবো। আমাদের মতো আরও অনেকে ফিরে যাচ্ছেন আর অনেকে বের হবেন না উল্লেখ করে থেকে যাবেন বলছে।

তারকা হোটেল সায়মানের ফোকাল পয়েন্ট আসাদুজ্জামান নূর বলেন, হোটেলের দু'শতাধিক কক্ষের মাঝে আগামী ১২ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৫০টি রুম বুকিং রয়েছে। এদের বেশি সংখ্যক বিদেশি। তবে দেশীয় পর্যটক কম রয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্তটা রয়েছে। সবাই যেন ভোট দিতে পারে সেজন্য সরকারি ছুটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এসময় নিজের এলাকা ত্যাগ করা দৃষ্টিকটু। নিজ এলাকার বাইরে যারা থাকবে, তারা যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারে সেটি ধরে নিয়ে কঠোরতা নিশ্চিত করা হবে। এসব বিবেচনায়, ভোগান্তি এড়াতে নির্বাচনের আগে-পিছে মিলিয়ে ৩দিন পর্যটন এলাকা কিংবা নিজ এলাকার বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্লান না করাই উত্তম।

কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে প্রশাসন। প্রতিটি নাগরিকের উচিত ভোটের সময় নিজ এলাকায় অবস্থান করা। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্ভব।

সায়ীদ আলমগীর/এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।