বামন পরিবারের ঈদ আনন্দ


প্রকাশিত: ০২:১২ পিএম, ০৮ জুলাই ২০১৬

ঈদে নতুন পোষাক কেনার ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে তা কেনা সম্ভব হয়নি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের তিস্তা নদীর পাড়ের নিজ গড্ডিমারী গ্রামের দিনমজুর সোলেমান আলীর। তারপরও সোলেমান আলীর বামন পরিবারের ঈদ আনন্দের কমতি নেই।

আট জনকে নিয়ে সোলেমার আলীর অভাবের সংসার। জায়গা জমি নেই, খাস জমির উপর টিনের চালা পেতে তাদের বসবাস। বড় মেয়ে ফরিদা আক্তারে মুদির দোকান আর দুই সন্তানের প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়ে সংসার চলে।

Bamon

বামন প্রতিবন্ধী চার ভাই বোন ফরিদা আক্তার (২৯), শাহ আলম হাবিল (২৭), রাশেদা খাতুন (২২),কাবেল মিয়া (২০) অন্য রকম ঈদ আনন্দ করেন। নতুন পোশাক কিনতে না পারলেও পরিবারে সঙ্গে ঈদ করেছেন ওই চার ভাই-বোন। তাদের পরিবার মুখে ছিল হাসি আর আনন্দের উৎসব।

বামন পরিবারকে নিয়ে জাগো নিউজে `কষ্টের মাঝেও ওরা সুখী` প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংবাদকর্মীরা এবং এলাকার লোকজন তাদের দেখতে বাড়িতে ভিড় জমায়।

Bamon

সরেজমিনে ঈদের দিন বিকেলে তাদের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, গত বছরের পোশাক পরেই তারা ঈদ উৎসব করছেন। জাগো নিউজের এই প্রতিবেদককে দেখে তাদের আনন্দের শেষ নেই। কেউ বসতে দেয় কেউ খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

শাহ আলম হাবিল মিয়া বলেন, সকালে সেমাই খেয়ে ঈদের নামাজ পড়তে গিয়েছি। বাড়ি ফিরে সবাই মিলে মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছি।  

Bamon

বামন ফরিদা আক্তার জাগো নিউজকে জানান, মুদির দোকান করে কিছু টাকা দিয়ে ঈদে শুধু মায়ের জন্য একটি শাড়ি কিনে দিয়েছি। পরিবারে সদস্য অনেক তাই টাকার অভাবে কিনতে পারিনি। তারপরও পরিবার নিয়ে আমাদের ঈদ ভালোই কেটেছে।

Bamon

তিনি আরো জানান, আমরা গরিব তাই নতুন থ্রি পিচ কেনার মতো সমর্থন আমাদের নেই, পুরনো থ্রি পিচ পড়েছি। ঈদের অনেক আনন্দ করছি।

রবিউল হাসান/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।