কুড়িগ্রাম-২

অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান বিএনপি প্রার্থীর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুড়িগ্রাম-২ আসনের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহরের হাসপাতালপাড়ায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এসময় তিনি সব কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছি, যাত্রাপুর ও ভোগডাঙ্গাসহ কয়েকটি কেন্দ্রে ফলাফল শিটে তার পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। মাঠপর্যায়ে তাদের হিসাবে যে পরিমাণ ভোট পড়েছিল, ফলাফলে তার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার একটি কেন্দ্রে গণনার আগে ১১০টি বান্ডিল ব্যালট পেপার থাকলেও গণনার সময় ১০০টি পাওয়া গেছে। কিছু কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে পড়া ভোট নষ্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এ প্রার্থীর দাবি, জেলায় মোট ৯ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল দেখানো হয়েছে। যেখানে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীর ভোট বেশি সেখানে কোনো ভোট বাতিল হয়নি, অন্যদিকে যেসব কেন্দ্রে বিএনপির ভোট বেশি পাওয়ার কথা সেখানে অধিক পরিমাণ ভোট বাতিল করা হয়েছে। এসব ভোট পুনর্গণনার আওতায় আনা হলে ফলাফলে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০৫ ভোট। ২০৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৬ জন। ভোটের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই রাতেই বিএনপির সমর্থকেরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে গেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ২টার পর বিএনপির জেলা আহ্বায়ক হাসিবুর রহমানসহ আরও দুইজন নেতা ও কয়েক’শ কর্মী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন। সেখানে তারা নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপে বসেন।

তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং জানানো হয়, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলে তারা আইনগতভাবে আপিল করতে পারেন। জেলা পর্যায় থেকে ফলাফল পরিবর্তন বা পুনঃগণনার কোনো সুযোগ নেই, এই এখতিয়ার কেবল আদালতের।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি।

রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।