সেন্টমার্টিনে সৈকত এলাকার কেয়া গাছ কাটার অভিযোগ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সেন্টমার্টিন দ্বীপের সমুদ্রসৈকত এলাকায় কেয়া গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় কেয়া গাছ নিধনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কে বা কারা গাছ কেটে ফেলছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

তিনি আরও বলেন, গতকাল রোববার বিষয়টি জানার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচ কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ তিনি বলেন, গতকাল শনিবার দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় সূর্যাস্ত দেখতে এসেছিলাম, কিন্তু মন ভালো হয়নি। এখানে ঘন কেয়াবন উজাড় হয়েছে। সারি সারি কেয়া গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন ও পরিবেশ কর্মীদের দ্রুত এগিয়ে এসে বন রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এই গাছগুলো দ্বীপের রক্ষাকবচ ও সৌন্দর্যের আধার। এগুলো বাঁচাতে হবে।

স্থানীয় জাফর আলম বলেন, আমরা এই দ্বীপকে সুন্দর ও সবুজ রাখতে চাই। কেয়া গাছ কাটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু আমাদের পরিবেশকে নয়, পর্যটন ক্ষেত্রকেও প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে কেয়া গাছ কেটে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। কেয়া গাছ শুধু একটি উদ্ভিদ নয়, এটি উপকূলীয় পরিবেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী। এই গাছ ঝড়- জলোচ্ছ্বাসের সময় বালুচর ও বসতভিটা রক্ষা করে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিন একটি পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। সেখানে গাছ নিধন দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ পাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় কেয়া গাছ কাটার ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে কারা বা কোনো চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনোভাবেই পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না।

জাহাঙ্গীর আলম/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।