মানিকগঞ্জ
মিলছে না জলাতঙ্কের টিকা, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা
মানিকগঞ্জ জেলাজুড়ে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এমনকি ফার্মেসিগুলোতেও এ ভ্যাকসিন মিলছে না। ভ্যাকসিন না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আক্রান্ত রোগী ও স্বজনরা। কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এসব হাসপাতালে এলেও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসেন। অথচ হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ নাই গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে। আর এখন বাহিরে ফার্মেসিগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে না। যেদিন পাওয়া যায় সেই দিন বড়জোর ৫০ থেকে ৬০টা পাওয়া যায়। বাকি সবাই ভ্যাকসিন না নিতে পেরে ঘুরে চলে যায়।
বেতুলিয়া এলাকার আইসুল ইসলাম বর্ষ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সদর হাসপাতালে আসছিলাম ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য। পাই নাই। দুই ডোজ দিয়েছি পরেরটা আর পাচ্ছি না। এটা আমাদের সরকারিভাবে দেওয়ার কথা ছিল এবং সেইটা তো পাচ্ছি না। এমনকি বাহিরে ফার্মেসিগুলোতেও নাই। আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আশা করছি এই সংকটের পেছনে যদি কোনো সিন্ডিকেট কাজ করে, দয়া করে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে আমাদের ভোগান্তি কমাতে হবে।’

শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট এলাকার আলমাস খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বাচ্চাকে বিড়ালে কামড়েছে। এই কারণে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসছিলাম ভ্যাকসিনের জন্য। কিন্তু পাইলাম না মানিকগঞ্জের কোনো জায়গায় ভ্যাকসিন নাই। আমরা বিপদে আছি।’
গড়পাড়া গ্রামের সুখী বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বাচ্চাকে কুকুরে কামড়ানোর পর ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য এসেছি কিন্তু পাইলাম না। টাকা দিয়ে যে কিনবো ওষুধের দোকানেও নাই। কী করবো বুঝতে পারছি না।’
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ভ্যাকসিন বিভাগের ইনচার্জ জাগো নিউজকে বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে আমাদের ভ্যাকসিন সরবরাহ নাই। আমি আমাদের স্যারকে লিখিতভাবে চাহিদা দিয়েছি, আশা করছি চলে আসবে। তত্ত্বাবধায়ক স্যার ভ্যাকসিন আসার আশ্বাস দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবিএম তৌহিদুজ্জামান সুনন জাগো নিউজকে বলেন, সারাদেশেই ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। অধিদপ্তরে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে।
সজল আলী/এফএ/এমএস