৩০ বছর পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বঞ্চিত শেরপুর
৩০ বছর পর এবারই প্রথম শেরপুর থেকে কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী হননি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা।
সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলায় তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে গত ২৮ জানুয়ারি জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়। অপর দুটি আসনের মধ্যে শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এবং শেরপুর-২ আসন থেকে বিএনপির ফাহিম চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জানা যায়, ১৯৯৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা ৩০ বছর শেরপুরের দুটি আসনের এমপিরা বিভিন্ন সময়ে উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পূর্ণমন্ত্রী, হুইপ ও জাতীয় সংসদের উপনেতার পদ পেয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে শেরপুর-২ আসন থেকে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত বেগম মতিয়া চৌধুরী। এরপর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে একই আসনে মতিয়া চৌধুরীকে হারানোর পর জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পান জাহেদ আলী চৌধুরী।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এলে এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী জাহেদ আলী চৌধুরীকে পরাজিত করে আবারও কৃষিমন্ত্রী হন মতিয়া চৌধুরী। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং ওই বছরও মতিয়া চৌধুরী কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একই সময়ে শেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত আতিউর রহমান আতিক জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্ব পান।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরী পুনরায় নির্বাচিত হলে ২০২৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতার দায়িত্ব পান। পাশাপাশি শেরপুর-১ আসনের আতিউর রহমান আতিকও হুইপের দায়িত্ব পান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরী আবারও নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের উপনেতার দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ওই বছরের ১৬ অক্টোবর মতিয়া চৌধুরী মারা যান।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন জামালপুর-৬ আসন (তখন শেরপুর জামালপুর জেলার অন্তর্গত ছিল) থেকে বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ‘স্পষ্টভাষী’ খ্যাত কলাম লেখক ও সাংবাদিক খন্দকার আবদুল হামিদ নির্বাচিত হয়ে প্রথমে যুব উন্নয়নমন্ত্রী এবং পরে সাত্তার সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা এবং শ্রম-জনশক্তি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৩ সালের ২৩ অক্টোবর মারা যাওয়ার পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ব্যতীত অদ্যাবধি এ আসনে বিএনপির কেউ এমপি নির্বাচিত হতে পারেননি।
অপরদিকে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি সরকারের সময়ে শেরপুর-২ আসনের নালিতাবাড়ী উপজেলার তৎকালীন জাপা নেতা অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী এবং ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে দীর্ঘদিন পর শেরপুর জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিত্ব বা সমমর্যাদার কোনো পদ না পাওয়ায় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র ছাইফুল ইসলাম বলেন, পিছিয়ে থাকা এ জেলার উন্নয়নের স্বার্থে হলেও ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে—এমনটাই আশা ছিল আমাদের। কিন্তু আমরা হতাশ হয়েছি। তবে শেরপুর-৩ আসনে যদি বিএনপির প্রার্থী জয়ী হতে পারেন, তাহলে অন্তত কোনো একটি পদে দায়িত্ব পেলে আমরা আশাবাদী হব।
মো. নাঈম ইসলাম/আরএইচ/এএসএম