বান্দরবান

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ থেকে বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে ছাত্র হোস্টেল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান
প্রকাশিত: ১০:৪৪ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পাশের ছাত্র হোস্টেলসহ আশপাশের স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে সুয়ালক এলাকার বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হোস্টেলের উত্তর পাশে নিচে ঝিরি থেকে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। এসব বালু উত্তোলনে জড়িত রয়েছে পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার আমীর হোসেন, বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকার বাসিন্দা নুরুল আবচারসহ একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র। এতে মাটির স্তর দুর্বল হয়ে ভাঙন বা ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হোস্টেলের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন শিক্ষার্থী জানান, বালু উত্তোলনের ফলে হোস্টেল ভবনটি ভাঙন বা ধসে পড়ার চরম ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। ফলে হোস্টেল রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অপর এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে কাইচতলি এলাকার নুরুল আবচার (যিনি সুয়ালক ইউপির কাইচতলি নতুন পাড়া এলাকায় আলোচিত পাহাড় কাটা মামলার অন্যতম আসামি), আমির হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হোস্টেলের নিচে একটি মৃত ঝিরি থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। ফলে বিশেষ করে বর্ষাকালে ভাঙনের কবলে পড়ার চরম সম্ভাবনা রয়েছে হোস্টেলটি। জেলার সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেলটি রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি নষ্ট করা হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

অভিযুক্ত নুরুল আবচার জানান, অন্য কাজ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বালু নিচ্ছেন তিনি। বালু পরিবহন করতে আমীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করে রাস্তা তৈরি করেছেন। এছাড়াও সুয়ালক উত্তর কাইচতলী নতুন পাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর পাহাড় কাটার অন্যতম আসামি বলে জানান তিনি।

আমীর হোসেনের যোগাযোগের ঠিকানা বা ফোন নাম্বার না পাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহিবউল্যাহ ছিদ্দিকী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানা নেই।

এ বিষয়ে জানতে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরা মনিকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল ও ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

নয়ন চক্রবর্তী/এমএন/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।