মানিকগঞ্জে হত্যা মামলা দুইজনের যাবজ্জীবন
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কাশেদ আলী হত্যা মামলায় দুই জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি আজমতকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সিংগাইর উপজেলার কানাইনগর গ্রামের জয়নালের মেয়ে সাহেদা আক্তার এবং ছেলে মো. লিয়াকত আলী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহার।
মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় কাশেদ আলী নিখোঁজ হন। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় পরদিন স্ত্রী সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ মোবাইল কললিস্ট সংগ্রহ করে সন্দেহের ভিত্তিতে সাহেদা, লিয়াকত ও আজমতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তে জানা যায়, ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাহেদা কৌশলে কাশেদকে ডেকে নেয়। সেখানে সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সেদিন রাত ১২টার দিকে কাশেদের গলা, কাঁধ ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি পাটের বস্তায় ভরে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি সিম ক্ষেতে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখা হয়। ৩ নভেম্বর পুলিশ ওই স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত করেন সিংগাইর থানার এসআই রুহুল আমিন। গ্রেফতার হওয়া সাহেদা ও লিয়াকত আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই দিনজনকে আসামি করে মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। জামিনে বের হয়ে দুই আসামি দীর্ঘদিন পলাতক থাকেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহার জানান, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাহেদা ও লিয়াকতকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। অপর আসামি আজমতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শাহিদা খানম।
মো. সজল আলী/এনএইচআর/এএসএম