এবারও ক্যাম্পেই ঈদ রোহিঙ্গাদের, দেশে ফিরতে না পারার কষ্ট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ২১ মার্চ ২০২৬
ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করছেন দুই রোহিঙ্গা/ছবি-জাগো নিউজ

রাখাইনের স্মৃতি বুকে নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবারও ঈদ উদযাপন করেছেন মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। নিজ দেশের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে আসার পর থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও তারা স্বজনদের সঙ্গে ক্যাম্পেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।

শনিবার(২১ মার্চ) সকালে ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গারা পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বালুখালি ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‌‘ঈদ আমাদের জন্য আনন্দের দিন হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। নিজের দেশ, ঘরবাড়ি ও আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে এখানে ক্যাম্পে ঈদ করতে হচ্ছে, এটা কষ্টের। তবুও আল্লাহর কাছে শান্তি আর নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছি, যেন নিজ দেশ রাখাইনে ঈদ করতে পারি।’

আরেক রোহিঙ্গা সাবেকুন নাহার বলেন, ‘আগে রাখাইনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করতাম। এখন অনেকেই আলাদা হয়ে গেছি। এখানে আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করি ঠিকই কিন্তু নিজের বাড়ির মতো আনন্দ পাই না।’

এবারও ক্যাম্পেই ঈদ রোহিঙ্গাদের, দেশে ফিরতে না পারার কষ্ট

রোহিঙ্গা যুবক ইমরান হোসেন বলেন, ‘ঈদ আমাদের জন্য আনন্দের দিন হলেও এখানে কষ্টের মধ্যেই উদযাপন করি। আমাদের একটাই আশা—নিজের দেশে ফিরে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করা।’

কুতুপালং রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ তৈয়ব উল্লাহ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের দিন রাখাইনে কাটানো স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো আজও মনে পড়ে। সেখানে নামাজের পর একে অপরের বাড়িতে গিয়ে আমরা কত আনন্দ করতাম! কিন্তু ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন ও নির্যাতনের কারণে আমরা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হই। এখন ক্যাম্পের ঝুপড়ি ঘরে সীমিতভাবে ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে।’

‘উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম একদিন আবার রাখাইনে ফিরবো। গতবছর ড. ইউনূস আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, এই বছর নিজ দেশে ঈদ করতে পারবো। কিন্তু সেটাও আর সম্ভব হয়নি। তাই আনন্দের পাশাপাশি আছে গভীর কষ্ট।’

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা এবারও নিরাপদে ঈদ উদযাপন করছেন, যা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। ঈদসহ ধর্মীয় উৎসবগুলো তাদের মানসিক স্বস্তি এবং সম্প্রদায়গত সংহতির সুযোগ দেয়।

এবারও ক্যাম্পেই ঈদ রোহিঙ্গাদের, দেশে ফিরতে না পারার কষ্ট

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি যাতে ক্যাম্পে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপন সম্ভব হয়। পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা যাতে একদিন নিরাপদে নিজেদের দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।’

ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, রোহিঙ্গারা এবারের ঈদও নিরাপদে উদযাপন করতে পারছে। পুলিশ সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখছে, যাতে সবাই নিরাপদে থাকতে পারেন।

২০১৭ সালের সহিংসতার পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছেন। সেখানেই ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন তারা।

জাহাঙ্গীর আলম/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।