মণিরামপুরবাসীকে ভবদহের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে চান এমপি এনামুল
ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জরাজীর্ণ সড়কের উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। পাশাপাশি উপজেলাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত করতেও তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করতে চান। সম্প্রতি জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
জাগো নিউজ: যশোর-৫ আসনের কোন সমস্যাটিকে আপনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করতে চান?
গাজী এনামুল হক: প্রথমেই গুরুত্ব দিতে চাই ভবদহের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে। ভবদহের এই জলাবদ্ধতা সমস্যার কারণে এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বছরের পর বছর ধরে পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। হাজার হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই জলাবদ্ধতা দূর করতে চাই। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সমস্যা নিরসনই আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
জাগো নিউজ: উপজেলার উন্নয়নে দ্বিতীয় কোন পদক্ষেপটি নিতে চান?
গাজী এনামুল হক: মণিরামপুর উপজেলার জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যখাতের দিকে নজর দিতে চাই। বিশেষ করে হাসপাতালের খুবই দূরবস্থা। চিকিৎসক, ওষুধের সংকট। চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গ্রামের মানুষ যাতে উপজেলা হাসপাতালে এসে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পেতে পারে, সেজন্য আমি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাই।
জাগো নিউজ: এলাকার সংকট নিরসন বা উন্নয়নের ক্ষেত্রে আর কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
গাজী এনামুল হক: উপজেলার জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। উপজেলার অসংখ্যা রাস্তাঘাট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এই সড়কগুলো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এসব সড়ক সংস্কার ও নতুন নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণে আমি গুরুত্ব দিতে চাই।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। বিশেষ করে উপজেলায় দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গতে তুলতে চাই। যাতে উপজেলার বিভিন্ন অফিসে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘুস বাণিজ্যের শিকার হতে না হয়। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাই। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসমুক্ত উপজেলা গড়তে চাই, যাতে উপজেলাবাসী নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে বসবাস করতে পারে। সবমিলিয়ে মণিরামপুরের মানুষের জন্য নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।
মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম