কিশোরগঞ্জ

খাল খনন কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলডুবা-খামা সংযোগ খাল খননের অংশ হিসেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। খননকাজ চলাকালে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে কাজে বাধা দেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খাল খনন কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস ও পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক আজিজুল হাকিম মীর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে খন্দকার আল আশরাফ মামুনের নেতৃত্বে তারা কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের পক্ষের উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল কালাম মেম্বার, এগারসিন্দুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীন ডাক্তার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল, ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খুরশিদ উদ্দিন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয়। তারপরই দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।’

খাল খনন কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোক্তা খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, ‘খাল খনন একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়নের সময় বিএনপির নামধারী কিছু ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খুরশিদ উদ্দিন ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল আলম বলেন, ‘এই খাল সরকারিভাবে খনন করার জন্য আমরা স্থানীয় এমপি জালাল উদ্দিনের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলাম। যারা এই কাজ করছেন তারা নিজেদের জমি বাঁচাতে মামুনকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন। তারা ছোট করে নামমাত্র পরিষ্কার করছেন। ফটো তোলার জন্য এই কাজ করছেন।’

খাল খনন কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হামলা করিনি। আমরা দেখতে গিয়েছিলাম। তারাই আমাদের ওপরে হামলা করেছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘এক পক্ষ খাল পরিষ্কার করতে এলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়—এ থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

খাল খনন কর্মসূচি ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আপাতত খাল খনন কর্মসূচি চলমান থাকতে পারে।

জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন ফোনে বলেন, ‘আমার কোনো লোকজন এখানে নেই। এটি খাল খনন না বোধহয়, খাল পরিষ্কার করছে। বিষয়টি প্রশাসনও জানে না, আমিও জানি না। মানে আমার কোনো লোকজন নেই।’

এসকে রাসেল/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।