ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬
কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম, ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার শিমরাইল গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে বেশ কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বুড়ি নদী পার করে পাশের কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

কসবা থানার পুলিশ বিষয়টি বাঙ্গরা থানাকে অবহিত করলে পুলিশ দ্বীন ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দ্বীন ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন।

নিহতের বাবা সফিকুল ইসলাম ও মা পারুল বেগম জানান, মাদকসেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতো তাদের ছেলে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। দ্বীন ইসলাম নিহতের ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীরা জড়িত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম খারাপ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে কসবা থানাসহ বিভিন্ন থানয় বহু মামলাও রয়েছে। ফেসবুকে একটি পেজ খুলে মানুষের বিরুদ্ধে ভিডিও দিতো। তবে তিনি শুনেছেন কে বা কারা তাকে মারধর করে নদীর পাড়ে পাশের থানার সীমানায় ফেলে রেখেছে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করে নদীর ধারে ফেলে রেখেছে বলে শুনেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দ্বীন ইসলামের নামে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। তবে হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।