হকার-মোটরসাইকেলের দাপটে অতিষ্ঠ কুয়াকাটা সৈকতের পর্যটকরা

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অব্যবস্থাপনা ও চরম বিশৃঙ্খলার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আগত পর্যটকরা। সৈকতের মূল পয়েন্টে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল, বসার বেঞ্চের সামনেই ভাসমান দোকানের সারি এবং দলবদ্ধ ফুটবল খেলার কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে পর্যটনের স্বাভাবিক পরিবেশ। বিশেষ করে টুরিস্ট পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।

পর্যটকদের অভিযোগ, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে হাজারো পর্যটক কুয়াকাটায় ভিড় করলেও সৈকতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছেন না। সৈকতের জিরো পয়েন্টে বসার বেঞ্চে বসলে সমুদ্র দেখার বদলে সামনে পড়ে চটপটি, আচার ও কুলফি মালাইয়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানের ঝুপড়ি। এছাড়া বালুচরের বুক চিরে দ্রুতগতিতে চলছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও অটোভ্যান, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

একই সঙ্গে সৈকতের বড় অংশজুড়ে ফুটবল খেলার কারণে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। তবে এতো সমস্যার পরেও টুরিস্ট পুলিশ মাঝে মাঝে শুধুমাত্র মাইকিং করেই সীমাবদ্ধ রাখছেন তাদের দায়িত্ব। সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে দুই দিকে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে পর্যটককে ভরপুর থাকলেও কখনোই চোখে পড়ে না তাদের টহল।

হকার-মোটরসাইকেলের দাপটে অতিষ্ঠ কুয়াকাটা সৈকতের পর্যটকরা

ময়মনসিংহ থেকে আগত পর্যটক সুজায়া বলেন, শান্তিতে সমুদ্র দেখার জন্য বেঞ্চে বসেছিলাম। কিন্তু সামনে দোকানের ঝুপড়ি আর মানুষের ভিড়ে সমুদ্রই দেখা যায় না। তার ওপর হঠাৎ মোটরসাইকেল চলে যায়। ফুটবল খেলায় বল এসে লাগার ভয়ও থাকে। সৈকতে শৃঙ্খলা থাকাটা জরুরি।

রাজন নামের এক পর্যটক আক্ষেপ নিয়ে বলেন, নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য আসলাম সৈকতে। এখন যে পরিমাণ মোটরসাইকেল চলাচল করে তাতে নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় আছি, বাচ্চাকে ছেড়ে দেওয়া তো দূরের কথা।

বরগুনা থেকে পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেল করে সৈকতের জিরো পয়েন্টে ঘোরাঘুরি করছিলেন মো. বেল্লাল নামের একজন পর্যটক। সৈকতে মোটরসাইকেল নিয়ে কেন নেমেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিতো জানি না যে সৈকতে মোটরসাইকেল নিয়ে নামা নিষেধ। আর কেউ নিষেধও করেনি, পুলিশ দেখছি না। আর অনেকেই তো নামছেন, তাই আমিও নামছি।

তবে ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা বলছেন, বিক্রি বাড়াতে শব্দ ব্যবহার করতে হয়। উচ্চ শব্দের বক্স না চালালে ক্রেতা আসে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।

হকার-মোটরসাইকেলের দাপটে অতিষ্ঠ কুয়াকাটা সৈকতের পর্যটকরা

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, সৈকতের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। বেঞ্চের সামনে দোকান, মোটরসাইকেল ও ফুটবল খেলার কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। টুরিস্ট পুলিশকে সৈকতে কোথাও দেখা যায় না। তারা শুধু বক্সে বসে থাকেন। আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন তাদের।

অভিযোগের বিষয়ে টুরিস্ট পুলিশ জোন ইনচার্জ তাপস চন্দ্র রায় বলেন, মোটরসাইকেল বন্ধে আমরা মাইকিং করছি, তারপরেও অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, সৈকতে মোটরসাইকেল চালকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। ইতঃপূর্বে এক শিশুর পায়ে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা গতকালকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সৈকতে প্রাথমিক অভিযান চালিয়েছি। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/কেএইচকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।