ঈশ্বরদীতে বিয়ের হিড়িক, সাজসজ্জা সামগ্রী বিক্রির ধুম
ঈদুল ফিতরের পরের দিন থেকেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলাজুড়ে বিয়ের হিড়িক পড়েছে। শহরের পাড়া-মহল্লা ও প্রতিটি গ্রামে একাধিক বিয়ে অনুষ্ঠান চোখে পড়ছে। বিয়ের কেনাকাটার আমেজ চোখে পড়ছে বাজারের দোকানপাট ও শপিংমলগুলোতেও।
বিয়ের দাওয়াত কার্ড, বরের মুকুট, শেরওয়ানি-পাঞ্জাবি, কনের শাড়ি-লেহেঙ্গা, গায়ে হলুদের সরঞ্জাম, লাগেজ, জুতা, প্রসাধনী, বাসরঘর সাজানোর সামগ্রীসহ নানান কেনাকাটায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্বজনরা।
বিয়ের আয়োজনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে শত রকমের কেনাকাটা করতে হয়। এরমধ্যে রয়েছে গায়েহলুদের জন্য ডালা-কুলা, একই রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি, প্রদীপ বাটি, রাখি, চন্দন, সোহাগপুরি, আফসান, হলুদ তোয়ালে, মেহেদি, ছোট পালকি, ঝুড়ি, কসমেটিক প্রভৃতি। হলুদের মঞ্চ সাজাতে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম ফুল কিনতে হয়।
ঈশ্বরদীতে বাজারে শ্যালকের বিয়ের কেনাকাটা করতে এসেছেন শাহিনুর রহমান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘শ্যালকের বিয়ে। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছি। বিয়ে ও গায়েহলুদের শাড়ি, পাঞ্জাবি, মুকুট, কসমেটিকসসহ সবকিছু কেনাকাটা করতে হবে। শুক্রবার বিয়ে। হাতে সময় কম। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই কেনাকাটা শেষ করতে হবে।’

ঈশ্বরদী বাজারের মেসার্স শাহ জরি হাউজ উপজেলার সবচেয়ে বড় বিয়েসামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাহিদুল ইসলাম রিপন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের দুদিন আগে থেকে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) পর্যন্ত আমাদের দোকানে শতাধিক বিয়ের মুকুট বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি বর-কনের মালা, বাসরঘর সাজানো ফুল, জড়ি, আবির, পাটি স্প্রে, গেট সাজানোর বেলুনসহ বিভিন্ন বিয়ের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদের পর বিয়ের আয়োজন বেশি হয়। এবার অন্যবারের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। আমাদের বেচাকেনাও সন্তোষজনক।’
শহরের রিকশা স্ট্যান্ডের বিয়ের সাজসজ্জা বিক্রির দোকান ‘সাজ ঘরের’ স্বত্বাধিকারী মাহামুদুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘আমাদের দোকান থেকে বেশি বিক্রি হয় তাজা ফুল, যেটা দিয়ে বাসরঘর সাজানো হয়। এবার ফুলের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কম হচ্ছে।’
শহরের স্টেশন রোডের দোকানদার শহিদুল ইসলাম কনক জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েক মাস হলো বিয়েসামগ্রী বিক্রির দোকান দিয়েছি। ঈদের পর থেকে মুকুটসহ বিয়ের সাজসজ্জার সামগ্রী বেচাকেনা বেশ ভালো হচ্ছে।’

ঈশ্বরদী বাজারের সততা শাড়ি ঘরের স্বত্বাধিকারী হাসিবুর রহমান বলেন, ‘আমার দোকান থেকে তিন শতাধিক গায়েহলুদের শাড়ি বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ের শাড়িও বিক্রি হয়েছে। বিয়ে-শাদি উপলক্ষে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে।’
বাজারের দেশ পাঞ্জাবির স্বত্বাধিকারী তানজিম হোসেন বাপ্পি বলেন, ‘এবার ঈদের পর বিয়ের শেরওয়ানি ও পাঞ্জাবি বেচাকেনা হয়েছে। গায়েহলুদের পাঞ্জাবিও বেশ বিক্রি হয়েছে।’
শহরের ফতেহমোহাম্মদপুর এলাকার বিয়ের শাড়ি ও লেহেঙ্গা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাবেদ বেনারসির স্বত্বাধিকারী জাবেদ আলী বলেন, বিয়ের বেনারসি, কাতান শাড়ি ও লেহেঙ্গা বেশ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বৌভাতের পার্টি শাড়ির চাহিদাও এবার ভালো।

পাবনা জেলা কাজী সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, ধারণা করা যাচ্ছে ঈশ্বরদী উপজেলায় ঈদের পরে ১২০-১৫০টির মতো বিয়ে হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত আরও বেশ কিছু বিয়ে সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের পর বিয়ে-শাদির আয়োজনটা বেশি হয়। অন্যবারের চেয়ে এবার বিয়ে-শাদি বেশি মনে হচ্ছে।
এসআর/এএসএম