বরিশাল
হাসপাতালে এক বেডে একাধিক শিশু, অন্য রোগীও আক্রান্ত হচ্ছে হামে
সারাদেশের মতো বরিশালেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে হাম সংক্রমিত শিশুর সংখ্যা। দিনে দিনে এ রোগটি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তবে বরিশালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টিকার ব্যবস্থা থাকলেও নেই চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা। রয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে শয্যা সংকটও। একই বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে অন্য রোগে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসা নিতে এসেও হামে আক্রান্ত হচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, মূল ভবনের তৃতীয় তলায় ২টি ইউনিট নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটিতে এক বেডে ৩ জন শিশুকে চিকিৎসা নিতেও দেখা গেছে। এ অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া ও রোগটি ছড়িয়ে পড়ার চরম আশঙ্কা করছেন স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশুদের নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন স্বজনরা। ওয়ার্ডে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক বেড থাকায় চরম ভোগান্তিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন সবাই। এছাড়া হাম ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের একই বেডে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে। ফলে রোগটি সংক্রমণের শঙ্কা করছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সবাই।
হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন সালেহ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তার সন্তান টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তাকে হাম আক্রান্ত এক শিশুর সঙ্গে একই বেডে দেওয়া হয়। এরপর তার সন্তানও হামে আক্রান্ত হয়। এ ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এই ওয়ার্ডটিতে সচরাচর যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের কথা, সেটিও ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
জানা গেছে, হাম ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ৭৮টি বেড রয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত ওয়ার্ডটিতে ১৯৬ জন শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। যা ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ। ফলে বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতেও গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর হাম আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ১৩০ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসেই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৯ জন। যার মধ্যে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়ায় ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জাগো নিউজকে বলেন, হামের টিকা সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়স হলে দেওয়া হয়। কিন্তু ইদানীং ৭ মাস বয়সেই শিশুরা এ রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে। হামের টিকা সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। ওয়ার্ডটিতে বেড সংকট সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়। অথচ ৭ মাস বয়সেই শিশুরা হাম আক্রান্ত হচ্ছে। তাই শিশুদের ৯ মাসের পরিবর্তে কেন ৭ মাস বয়সে টিকা দেওয়া যাবে না এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা দরকার। এছাড়া হাম রোগ একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই এই রোগটির সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
শাওন খান/এফএ/জেআইএম