৫০ কোটি টাকা ঘুষ প্রস্তাব: নাম জানাতে আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে চাওয়া লোকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব পাচ্ছেন জানিয়েছিলেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা।
তার ওই বক্তব্যের একমাস পর মুফতি আমির হামজাকে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশ করার জন্য লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসানের পক্ষে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ এই নোটিশ পাঠান।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরে একটি প্রতিষ্ঠানের ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হামজা ওই কথা বলেন।
সেসময় তিনি বলেছিলেন, ‘প্রায় সব মিলিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য ৫০ কোটি টাকার ওপরে অফার হয়েছে এই তিন দিনে। তাও কেউ জানবে না, শুধু আল্লাহ বাদে। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি, পুরা কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়বো না।’
নোটিশে বলা হয়েছে, আমির হামজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় জনসম্মুখে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য তিনি ৩ দিনে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। উপরন্তু বলেছেন, কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আপনার অবস্থান থেকে বদলানো যাবে না।
নোটিশ প্রেরণকারী উল্লেখ করেছেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ছবিসহ আপনার বক্তব্যের অংশ ফলাওভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো শরীয়াহ্ আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। আপনাকে যারা ঘুষ প্রদান করতে চেয়েছেন তাদের নাম প্রকাশ না করে আপনি শুধু ভালো মানুষ সাজার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন নাই বলে প্রচার করেছেন। ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং আইনের হাতে তুলে না দেওয়ার অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার শামিল।
এছাড়া লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির সাতদিনের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ঘুষ প্রস্তাবকারী ব্যক্তিদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ অথবা আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা হৃদয় হাসান বলেন, গত ২৭ মার্চ ফেসবুক আইডি থেকে বক্তব্যটি দেখতে পাই। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় জনগণ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে আমরা জানতে চাই। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, দুপুরের পর লিগ্যাল নোটিশটি এমপি সাহেব বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাতদিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীর পরিচয় অথবা আইনগত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তা না করেন তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমির হামজা মেডিকেল কলেজ চালু নিয়ে বললেন ৩ দিনে ৫০ কোটি টাকার অফার পেয়েছেন। অথচ তাকে কারা টাকা অফার করেছে, তাদের নাম খোলাসা করছেন না। এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। তিনি জনসন্মুখে ঘুষ প্রস্তাবকারীর নাম প্রকাশ করুক।
তবে এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
আল-মামুন সাগর/এফএ/জেআইএম