মাদারীপুর

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৬:০৮ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুর সদরের মোস্তফাপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ বাধে। এসময় উভয় পক্ষ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়াও এই ঘটনায় প্রায় ২০টি বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এছাড়াও সংঘর্ষের কারণে বেশকিছু সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সামসু সরদার (ওরফে কোপা শামসু) ও হাবিব হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রায় সময় এই দুই গ্রুপের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংর্ঘষ লেগেই থাকে। এর জেরে শুক্রবার সকালে সামসু সরদারের লোকজন হাওলাদার গ্রুপের একজনের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

এসময় মোস্তফাপুরের শাহীন হাওলাদারের মোবাইলের দোকান, রাকিবুল ইসলামের ঢাকা বিরিয়ানির দোকানসহ উভয়পক্ষের প্রায় ২০টি বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এসময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আশেপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এই ঘটনায় ৬ জন আহত হন। আহতরা মাদারীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তবে আহতদের নাম পাওয়া যায়নি। সংর্ঘষের সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

নাম না প্রকাশে স্থানীয় কয়েক জন জানান, মোস্তফাপুরের সরদার ও হাওলাদার বংশের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অনেকদিন ধরে উত্তেজনা লেগেই আছে। আর এতে করে প্রায় সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংর্ঘষ লেগেই থাকে। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা করা হয়। আমরা কারো পক্ষের লোক না, তবুও ভয়ে থাকি। মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের ছোট ছোট সন্তানরাও ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকে। এর একটি সুষ্ঠু সমাধান না হলে, আমরা সাধারণ মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবো।

মাদারীপর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

সংর্ঘষের ঘটনায় অভিযুক্ত সামসু সরদার ও হাবিব হাওলাদারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।