বন্যায় নীলফামারীর একাধিক স্কুল-ব্রিজ-কালভার্ট বিলীন


প্রকাশিত: ০২:৩৪ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৬

উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২৫ গ্রামের ১০ সহস্রাধিক পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, নীলফামারীর ডিমলায় বন্যা ও বন্যা পরবর্তী ভাঙনে একটি ইউনিয়নের সবকিছু বিলীন হয়ে গেছে। জেলা সদরের তিস্তা বেষ্টিত টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি কিন্ডার গার্ডেন, ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ১টি সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প, ১টি বাজার ও ১০টি গ্রামের প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক পরিবারের বসত ভিটাসহ রাস্তাঘাট পুল-কালভার্ট আবাদি জমি বন্যা ও ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে গেছে।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসায় ভয়াবহ ভাঙনের দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা, বাঁশ ও গাছের পাইলিং করেও কিছুই রক্ষা করতে পারেনি।

Nilfamare

জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাপুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, একই গ্রামের নব-নির্মিত একটি ব্রিজ বন্যার কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি চরখড়িবাড়ি এলাকায় ১৭ফিট ১টি ব্রিজ, জিঞ্জির পাড়ায় ৭০ফিট ১টি ব্রিজ ও পূর্ব খড়িবাড়ি এলাকায় এডিপি নির্মিত ১০ফিট ১টি ব্রিজসহ ১০ গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবারের বসত-ভিটা নদীগর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়া জলঢাকার ডাউয়াবাড়ি-শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন জানান, দুই দিনের অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টি ৬০ ফিট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া দেবে যাওয়া ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নদীগর্ভে বিলীন হতে চলছে। ক্লিনিক দুইটির ইট ধসে নদীতে পড়ছে।

Nilfamare

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ১৯৬২ সালে তিস্তা গতিপথ পরিবর্তন করে যে পথ দিয়ে চলছিল। এবারের বন্যায় সে গতিপথ পরিবর্তন করে উল্টো দিকে চলছে। ফলে সবকিছু নদীগর্ভে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছি আমরা।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম বলেন, বন্যা ও ভাঙনের ফলে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য (বীর মুক্তিযোদ্ধা) আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, আমি সরকারি সফরে শ্রীলঙ্কায় আছি। তবে সার্বক্ষণিক বন্যা কবলিত এলাকার খোঁজ খবর নিচ্ছি। উপজেলা ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ইতোমধ্যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব কিছুর তালিকা তৈরি করছে। ওই তালিকা উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের হাত এলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
   
জাহেদুল ইসলাম/এএম/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।