কেনাকাটার ক্লান্তিতে বাড়ছে অসুস্থতা, জানুন করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ১১ মার্চ ২০২৬
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো

ঈদকে সামনে রেখে সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে কেনাকাটায়। রাজধানীর শপিংমল থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার, সব জায়গাতেই ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী কিংবা পরিবারের জন্য নানা উপহার কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরছেন ক্রেতারা। তবে এই ব্যস্ততা ও দীর্ঘ সময় কেনাকাটার কারণে অনেকেই শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে বাড়ছে মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, পানিশূন্যতা কিংবা সর্দি-জ্বরের মতো সমস্যাও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের কেনাকাটার আনন্দের মাঝেই নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সামান্য কিছু সচেতনতা থাকলে কেনাকাটার ক্লান্তি থেকেও নিজেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

কেনাকাটার ক্লান্তিতে বাড়ছে অসুস্থতা, জানুন করণীয়দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটিতে শরীর ক্লান্ত

ঈদের কেনাকাটায় সাধারণত একদিনে অনেক দোকান ঘুরতে হয়। কখনো এক শপিংমল থেকে আরেকটিতে যেতে হয়, আবার কখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি বা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে পায়ে ব্যথা, কোমর ব্যথা কিংবা মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে। তাই কেনাকাটার সময় মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া খুবই জরুরি। দীর্ঘ সময় একটানা হাঁটাহাঁটি না করে একটু বসে নেওয়া শরীরকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।

পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে

সারাদিন রোজা রেখে অনেকেই ইফতারের পর শপিং করতে বের হন। তখন ভিড় আর গরমের কারণে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেক পানি বের হয়ে যায়। কিন্তু কেনাকাটার ব্যস্ততায় অনেকেই পানি পান করতে ভুলে যান। এতে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে বাইরে বের হলে অবশ্যই সঙ্গে পানির বোতল রাখা ভালো। মাঝেমধ্যে পানি বা শরবত পান করলে শরীর সতেজ থাকে।

পর্যাপ্ত খাবার না খেলে সমস্যা বাড়ে

কেনাকাটার ব্যস্ততায় অনেকেই সময়মতো খাবার খান না। কেউ কেউ ঠিকভাবে ইফতারও করেন না। এতে শরীরের শক্তি কমে যায় এবং দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। তাই কেনাকাটায় বের হওয়ার আগে হালকা কিন্তু পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো। প্রয়োজনে সঙ্গে শুকনো খাবার বা ফলও রাখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: 

ভিড় এড়িয়ে পরিকল্পনা করে বের হন

ঈদের আগে শপিংমলগুলোতে সাধারণত সন্ধ্যার পর ভিড় বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে সকাল বা দুপুরের দিকে কেনাকাটা করা ভালো। এতে ভিড়ও কম থাকে এবং শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে। একই সঙ্গে আগে থেকে কী কী কিনবেন তার একটি তালিকা তৈরি করলে অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি কমে যায়। এতে সময় ও শক্তি দুটিই সাশ্রয় হয়।

কেনাকাটার ক্লান্তিতে বাড়ছে অসুস্থতা, জানুন করণীয়আরামদায়ক পোশাক ও জুতা বেছে নিন

কেনাকাটার সময় অনেকক্ষণ হাঁটতে হয়, তাই আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শক্ত বা অস্বস্তিকর জুতা পায়ে ব্যথা তৈরি করতে পারে। সুতির হালকা পোশাক ও নরম সোলের জুতা ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি করলেও তুলনামূলকভাবে স্বস্তি পাওয়া যায়।

শরীর খারাপ লাগলে গুরুত্ব দিন

কেনাকাটার সময় যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা অসুস্থতা অনুভব করেন, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। তখন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনে বাসায় ফিরে যাওয়া ভালো।

ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় একটি অংশ হলো কেনাকাটা। তবে এই আনন্দ যেন শারীরিক অসুস্থতার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই আপনাকে সুস্থ রেখে ঈদের প্রস্তুতিকে করে তুলতে পারে আরও আনন্দময়।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।