আশুলিয়ার শিল্পখাতে তেলের হাহাকার, রেশনিং পদ্ধতি চান ব্যবসায়ীরা
জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া। এ অঞ্চলের কলকারখানাগুলোতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট এই বৈশ্বিক সংকটে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও প্লাস্টিক খাত এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এরই মধ্যে অনেক কারখানায় উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিল্পকারখানার মালিক ও কর্মকর্তাদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। ফলে লোডশেডিংয়ের সময় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ডিজেল সংকটে পণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, রেশনিং পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থাৎ শিল্প কারখানার ধরন অনুযায়ী দৈনিক জ্বালানি তেল বিক্রির পরিমাণ নির্ধারণ করে, নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে। এই পদ্ধতি চালু না করলে বড় ধরনের সংকটে পরবে এই খাত।
একটি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম নিজের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। বায়ারকে সময়মতো অর্ডার দিতে না পারলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। ব্যয়ের লাগাম টানতে না পারলে অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে পারে।

তিনি বলেন, গুরুত্ব বিবেচনায় এখনই রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। অন্যথায় তেলের কারণে বিভিন্ন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি শিল্পকারখানার চেয়ারম্যান বলেন, কারখানার তেলের জন্য তিন-চার দিন আগে পাম্প মালিকদের কাছে সিরিয়াল দিয়ে রাখতে হচ্ছে। তারা কখনো তেল দিচ্ছে আবার কখনো ফিরিয়ে দিচ্ছে। তখন বিকল্প ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে যে-কোনো সময় উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
মেসার্স কবিরপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আতোয়ার রহমান বলেন, ডিপো থেকে তেল কম পাওয়ায় স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের চাহিদা মাফিক তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে ফোন করে তাগিদ দিলেও তেল না থাকায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে হচ্ছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা জানা নেই কারো।
এদিকে তেলের সঠিক বণ্টন ও কালোবাজার ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। নিয়োগ করা হয়েছে ট্যাগ অফিসার। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ফিলিং স্টেশন গুলোতে অবৈধভাবে তেল মজুত ঠেকাতে, দৈনিক প্রাপ্যতার চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে এদের পাশাপাশি পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
মাহফুজুর রহমান নিপু/কেএইচকে/এমএস