সেবা বন্ধ ক্যামেলিয়া হাসপাতালে, দুর্ভোগে ১৫ চা বাগানের লাখো বাসিন্দা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৫টি চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিকদের একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ক্যামেলিয়া হাসপাতাল ১৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে করে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় লাখো মানুষ।

গত ২৭ মার্চ ৭ম শ্রেণিপড়ুয়া ঐশী রবিদাস নামে এক কিশোরীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। সে এক চা শ্রমিকের সন্তান। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা চিকিৎসা কেন্দ্রটির স্টাফদের অবরুদ্ধ, হামলা ও ভাঙচুর করেন।

এই ঘটনার পর চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী চা শ্রমিকরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জানা যায়, উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথাব্যথা নিয়ে গত ২৬ মার্চ রাতে শমশেরনগর ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি হলে পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়। পরে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা স্টাফদের অবরুদ্ধ ও হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। এমন অবস্থায় চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। তবে হাসপাতাল দেখভালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও জানা যায়, ১৯৯৪ সালে শমশেরনগরের ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতাল স্থাপিত হয়। হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ডানকান ব্রাদার্সের ১৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক চা শ্রমিক অস্ত্রোপচারসহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে আসছে।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটসহ নানা জটিলতায় কয়েক বছর ধরে অস্ত্রোপচার হচ্ছে না বলে জানা গেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন চা বাগান থেকে রোগীরা হাসপাতালে এসে সেবা গ্রহণ করে। ২৭ মার্চ থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় সাধারণ চা শ্রমিকরা উপজেলা, জেলা হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে ভিড় করছেন।

ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল খোলা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসকরা উপস্থিত না থাকায় সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। হেড অফিসে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চা শ্রমিক নেতা রামভজন কৈরী বলেন, হাসপাতালে পুনরায় চিকিৎসাসেবা চালু করার জন্য আমরা কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করছি। তিনি বলেছেন বিষয়টি দেখবেন। এই হাসপাতালে ১৫টি চা বাগানের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ সেবা নেন।

এ বিষয়ে ক্যামেলিয়া হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আসলে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। পুরো বিষয়টি ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ ইংল্যান্ড থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমরাও চাই হাসপাতালে পুনরায় সেবা চালু হোক।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আমার কাছে এসেছিলেন হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার জন্য। আমি বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো।

এম ইসলাম/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।