পদ্মায় বড়শিতে ধরা সেই কুমির ১০ ঘণ্টা পর উদ্ধার
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে আটকা পড়া কুমিরটি প্রায় ১০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষ টিম।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজীবাড়ির খেয়াঘাট এলাকা থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের হাজারি বড়শিতে কুমিরটি ধরা পড়ে। পরে স্থানীয় জেলেরা কুমিরটি নিরাপদে উদ্ধার করে কাজীবাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন এবং প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। বিকেলের দিকে খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ টিম এসে এটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় জেলে স্বপন ব্যাপারী বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বড়শিতে অস্বাভাবিক টান অনুভব করি। ধারণা করি বড় কোনো মাছ হবে। পরে টেনে তুলে দেখি কুমির আটকা পড়েছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আমরা কুমিরটি জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করি।’
আরও পড়ুন:
পদ্মায় জেলেদের বড়শিতে উঠে এলো কুমির
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ‘খবর পেয়ে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, পদ্মায় যেহেতু নোনা পানির কুমির পাওয়া গেছে, তাই শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে নদীতে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সেক্ষেত্রে খুব শিগগির এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হবে।

বিষয়টি নিয়ে খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য জানান, উদ্ধার করা কুমিরটি পুরুষ নোনা পানির প্রজাতির। সাধারণত এ ধরনের কুমির সমুদ্র বা উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে বাস করে। তবে জোয়ার-ভাটা, খাদ্যের সন্ধান কিংবা প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝে তারা মিঠাপানির নদীতেও চলে আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কুমিরটি প্রথমে খুলনায় নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত পরিবেশে, সম্ভবত নোনা পানির আবাসস্থলে এটি অবমুক্ত করা হবে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম