খুলনা হাই-টেক পার্ক

বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ, হচ্ছে না সিনেপ্লেক্স ভবন

আরিফুর রহমান আরিফুর রহমান , জেলা প্রতিনিধি খুলনা
প্রকাশিত: ০২:৪৯ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢিমেতালে চলছে খুলনা হাই-টেক পার্ক নির্মাণকাজ/ছবি-জাগো নিউজ

তিন বছরেও শেষ হয়নি খুলনার ভৈরব নদীর তীরে নির্মাণাধীন হাই-টেক পার্কের কাজ। এ দীর্ঘ সময়েও মাত্র ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে হাই-টেক পার্ক প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। দীর্ঘ সময় পর খুলনা নগরীর রূপসা শিল্পাঞ্চলে ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৫৯ একর জমিতে হাই-টেক পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের মার্চে। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুবরো হাইটেক পার্কের নির্মাণকাজ শুরু করে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নির্মাণকাজ প্রায় চার মাস স্থগিত ছিল। কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পুনরায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

বর্তমানে পাঁচতলা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে এখনো প্রায় দুই বছর সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ, হচ্ছে না সিনেপ্লেক্স ভবন

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইটি সেক্টরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আইটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এ হাই-টেক পার্ক। আইটি বা আইটিইএস শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়ন এবং বিজনেস প্রোসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) হাব তৈরির জন্য স্বল্প মূল্যে রেডি বিজনেস স্পেস বরাদ্দের সুযোগ তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা সম্বলিত বিনামূল্যে বরাদ্দের জন্য স্টার্টআপ ফ্লোরের স্পেস বরাদ্দের সুযোগ থাকবে এতে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভৈরব নদীর তীরে চলছে হাই-টেক পার্ক ভবনের নির্মাণকাজ। ভবনের মূল কাঠামো মজবুত করার জন্য উচ্চমানের ইস্পাত বা স্টিল ফ্রেম ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত ও টেকসই নির্মাণের জন্য কংক্রিটের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে কারখানায় তৈরি রেডি মিক্স কংক্রিট। দেওয়াল ও ছাদ দ্রুত নির্মাণের জন্য অ্যালুমিনিয়ামের আধুনিক ফ্রেম ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাঁচতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কক্ষ নির্মাণসহ ভবনের বাকি কাজ চলমান।

বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ, হচ্ছে না সিনেপ্লেক্স ভবন

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শেষ করতে হলে ভারত থেকে মালামাল আমদানি করার জন্য কাস্টম শুল্ক বাবদ ব্যয় বাড়তে পারে। তবে প্রকল্পের বাজেট বাড়বে না। সরকারের জিওবি খাতে ব্যয় সংকোচন নীতির আলোকে সিনেপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হবে না।

আরও পড়ুন:
কাজ ফেলে চলে গেছেন ভারতীয়রা, অনিশ্চয়তায় ১২ হাইটেক পার্ক

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ না থাকলে চলতি বছর কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। ভারতীয় ঠিাকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা ৫ আগস্টের পর চলে যান। পরবর্তীতে নতুন কর্মকর্তারা এসে কাজ শুরু করেন। এখন প্রকল্পের মেয়াদ আরও প্রায় দুই বছর বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ, হচ্ছে না সিনেপ্লেক্স ভবন

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘হাই-টেক পার্ক নির্মাণকাজ খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকা এক ধরনের ব্যর্থতার পরিচায় দেয়। বিগত দিনে কোনো প্রকল্প শুরু হলে সহজে শেষ হতো না। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যেত। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। সময়মতো সরকারি কাজ শেষ না হওয়ার পেছনের কারণ খুঁজে সরকারকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত কাজ শেষ হলে খুলনার তরুণ সমাজ আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হবে। এজন্য প্রকল্পটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।’

বাড়ছে প্রকল্পের মেয়াদ, হচ্ছে না সিনেপ্লেক্স ভবন

তবে প্রকল্প পরিচালনা করতে বর্তমানে কোনো জটিলতা নেই বলে জানান প্রকল্পের উপ-পরিচালক (জেলা পর্যায়) খন্দকার আশরাফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘খুলনায় হাই-টেক পার্কের নির্মাণকাজ খুব দ্রুত শেষ করতে আমরা চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে ভবন নির্মাণের মূল কাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। পাঁচতলা পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান।

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।