পাঁচ বছর ধরে বেতন পান না শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ ৩০ মাস, আবার কেউ ৫৬ মাস ( ৪ বছর ৮ মাস) ধরে বেতন পান না। দীর্ঘদিন ধরে বেতনভাতা বকেয়া থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। এ অবস্থায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ওইসব ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) থেকে কর্মবিরতি পালন কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। এতে করে পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, শেরপুর পৌরসভায় একাধিক নিজস্ব খাত থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ আয় হলেও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এক-দুই মাসের বেতনভাতা দিয়ে তাদের কেবল শান্ত রাখা হয়। আর কাগজে-কলমে নানা বিল-ভাউচার তৈরি করে সিংহভাগ টাকা লোপাটে ব্যস্ত সংঘবদ্ধ একটি চক্র। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে চক্রটির বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না দাবি সূত্রটির।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ আমলে গঠিত হয় শেরপুর পৌরসভা। দেড়শ’ বছরের প্রাচীন পৌরসভা এটি। বগুড়া সদর পৌরসভারও একদিন আগে এটি গঠিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গর্ব করেন শেরপুরের মানুষ। কিন্তু তারাই এখন বলছেন, ঐতিহ্যের এই গর্ব ছাড়া এই পৌরসভাটি নিয়ে বলার মতো তেমন কিছুই নেই। নাগরিক সুবিধাও নেই এখানে। নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক দৈন্য দশায় বিপর্যস্ত এই প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ বিল বাকি লাখ লাখ টাকা। অর্থ সংকটের অজুহাতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া ৩০ থেকে ৫৬মাস পর্যন্ত।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা নিম্ন শ্রেণির কর্মচারী। আমাদের সামান্য বেতনে সংসার চালাই। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। ফলে দারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। তাই বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। অতিদ্রুত তাদের এই দাবি পূরণে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
পৌরসভার টিকাদানকারী আফরোজা বেগম বলেন, প্রায় পঞ্চাশ মাস যাবত বেতনভাতা পাচ্ছেন না। ফলে বাসা-ভাড়া ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ধার-কর্জ করে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন। তাছাড়া কোরবানির ঈদও আসন্ন। তাই সংসারের খরচ জোগাড় করা নিয়ে ভেবে কুল-কিনারা পাচ্ছেন না। অথচ পৌরসভার হাট-বাজারসহ একাধিক নিজস্ব খাত থেকে লাখ লাখ টাকা আয় হলেও তার কোনো হদিস নেই। এসব টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করলেও কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। তাই অনেক কিছুই এখনো অজানা। তবে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেশ কয়েকমাসের বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে। এজন্য তারা কর্মবিরতিও পালন করছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
কেএইচকে/এমএস