টাঙ্গাইল বিসিক

কাগজে-কলমে শিল্পনগরী, বাস্তবে ‘দুর্ভোগের কেন্দ্র’

আব্দুল্লাহ আল নোমান আব্দুল্লাহ আল নোমান , জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দুই বছর ধরে জরাজীর্ণ হয়ে আছে টাঙ্গাইল বিসিকের এক শিল্প কারখানা/ছবি: জাগো নিউজ

টাঙ্গাইলে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে বিসিক শিল্পনগরী। প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পার হলেও পূর্ণতা পায়নি জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প এলাকাটি। সুপেয় পানির অভাব, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বেহাল রাস্তাঘাট ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিল্প মালিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ৬৫টি প্লটে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার কথা থাকলেও বাস্তবে চালু রয়েছে মাত্র ৩৫-৪০টি। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে টাঙ্গাইল শহরের তারটিয়ায় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮৬ সালে প্রায় ২৩ দশমিক ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়, যার ক্রয়মূল্য ছিল ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। রাস্তা, প্রশাসনিক ভবন ও মসজিদের জন্য ৬ দশমিক ৫০ একর ভূমি ব্যবহারের পর বাকি জমি প্লট আকারে বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ৬৫টি।

আরও পড়ুন:
খামারিদের লাভের স্বপ্নে ‘কাঁটা’ ভারতীয় গরু
জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল ব্যবসায় ধস

অভিযোগ রয়েছে, প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী কারখানা তৈরি না করে জায়গা খালি রেখেছেন, কেউ গড়ে তুলেছেন বসতবাড়ি। আবার কেউ উৎপাদনে গিয়ে লোকসানে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে ৩৫-৪০টি কারখানা কাগজে-কলমে থাকলেও নিয়মিত চালু রয়েছে মাত্র ২৩-২৪টি। বাকি ১০-১২টি কারখানা মৌসুমভিত্তিক। কেউ কেউ আবার নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্লট ভাড়া দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দিলেও কারখানা চালু করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। শিল্পনগরীটি পুরোদমে চালু হলে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো।

কাগজে-কলমে শিল্পনগরী, বাস্তবে ‘দুর্ভোগের কেন্দ্র’

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকা ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো সংস্কার হয়নি। ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের দিয়েও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিল্প মালিক বলেন, বিসিক কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। আমরা নিয়মিত সার্ভিস চার্জ দিলেও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কেমিক্যাল, ফুড, ইঞ্জিনিয়ারিং, পেপার মিলসহ নানা প্রতিষ্ঠান এখানে থাকলেও অবকাঠামো অত্যন্ত নাজুক। নিয়ম অনুযায়ী প্লট বাতিলের বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষ শুধু চিঠি দিয়েই দায় সারছে।

কাগজে-কলমে শিল্পনগরী, বাস্তবে ‘দুর্ভোগের কেন্দ্র’

আরও পড়ুন:
আলু চাষিদের ভাগ্য যেন উত্থান-পতনের গল্প
বন্ধ চিনিকলে আটকা হাজারো শ্রমিক-চাষির ভাগ্য

বিসিকে কর্মরত নারী শ্রমিক পারভীন আক্তার জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরতে তারা ভয় পান। ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভেতরের রাস্তা এতই খারাপ যে মালবোঝাই ট্রাক চালানো যায় না। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

মুন ফ্লাওয়ারের স্বত্বাধিকারী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিসিক প্রতিষ্ঠার পর নতুন কোনো উদ্যোক্তা তৈরি হয়নি। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষের উচিত দক্ষ বিনিয়োগকারী খুঁজে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করা।

কাগজে-কলমে শিল্পনগরী, বাস্তবে ‘দুর্ভোগের কেন্দ্র’

এ প্রসঙ্গে বিসিকের শিল্পনগরী কর্মকর্তা ওয়াসিম সরকার বলেন, বিনিয়োগের অভাব ও গ্যাসের সংকটের কারণে অনেক উদ্যোক্তা উৎপাদনে যাচ্ছে না। আমরা মালিকদের সতর্ক করে চিঠি দিচ্ছি।

বিসিকের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ পারভীন বলেন, যারা নিয়ম মানছেন না তাদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। পরপর তিনটি নোটিশের পর নীতিমালা অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ বাতিল করা হবে। বর্তমানে ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে।

এমএন/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।