মৌলভীবাজার
পানিতে নিমজ্জিত বেশিরভাগ ধানক্ষেত, দিশেহারা কৃষক
মৌলভীবাজারে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে বোরো ধান। জেলার বেশিরভাগ পাকা ধান এখন পানির নিচে। ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, দুদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন এলাকা নিমজ্জিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে যেসব ধান বন্যায় আক্রান্ত হয়নি, তা আজ সকালে ডুবে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায়। হাওরে প্রায় ৮৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। নন-হাওর এলাকায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাটা হয়েছে ১৭ শতাংশ ধান।
সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বেশকিছু এলকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

কমলগঞ্জের কৃষক কামাল আহমেদ বলেন, ‘ধান কাটার সময় আমার এক একর জমি ডুবে গেছে। কীভাবে বছরের বাকি সময় ভাত খাবো, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। শুধু আমি একা না, আমার মতো সব কৃষকের কপাল পুড়েছে। সবাই খালি হাতে ফিরছেন। চোখের সামনে ধানক্ষেত ডুবে গেলো, কিছুই করতে পারলাম না।’
সজিব আহমেদ নামের আরেকজন বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করেছিলাম। ৮০০ টাকা মণ ধান বিক্রি করে আগাম টাকাও এনেছিলাম। এগুলো এখন কীভাবে পরিশোধ করবো? একদিকে মাথায় ঋণের বোঝা, অন্যদিকে ঘরে খাবার নেই। সবমিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘হাওর এলাকায় এখন পর্যন্ত ৮৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। নন-হাওর এলাকায় কাটা হয়েছে ১৭ শতাংশ। নিমজ্জিত এলাকা থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ধান হয়তো রক্ষা হবে।’
মাহিদুল ইসলাম/এসআর/এমএস