ব্রাহ্মণবাড়িয়া
টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাজার বিঘা জমির পাকা ধান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে উজানের পানির ঢলে হাওরের প্রায় হাজার বিঘা জমির বোরো পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে হাওরের সব জমির ধান তলিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। এতে বিপাকে পড়েছেন হাওরের জমিতে ধান চাষ করা কৃষকেরা।
জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে লঙ্গন, বেমালিয়া, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নদীর তীর ঘেঁষা হাওরে পানি প্রবেশ করলে মুহূর্তেই এসব জমির পাকা ধান তলিয়ে যায়। উপজেলার মেদিনীর হাওরের পাকা বোরো ধানের শীষ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও শুধু ধানের ছড়ার মাথা সামান্য ভেসে আছে। কৃষকরা কোমড়সমান পানির মধ্যেই ধান কাটছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বড় অংশই এনজিও ঋণের ওপর নির্ভর করে জমি চাষ করেছেন। আবার অনেকেই আছেন বর্গা চাষি। ফলে ফসল হারানোর সাথে সাথে ঋণ পরিশোধ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলো। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বার বার পাকা ধান কেটে নিতে বললেও কৃষক জমিতে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
কৃষদের জানান, এক বিঘা জমি আবাদে যে খরচ হয়েছে, বর্তমানে বাজারদরে ধান বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের আশঙ্কায় মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা। ফলে সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল জয়নাল খান বলেন, মাত্র দুইদিন সময় পেলে ধানগুলো কেটে বাড়িতে নেওয়া যেতো। কিন্তু সে সময় পাওয়া যায়নি। আমার জমি টাকা ঋণ করে চাষ করেছি। সেই টাকা পরিশোধ করা নিয়ে চিন্তিত।
আরেক কৃষক খালেক বলেন, ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে জমিগুলো চাষ করেছিলাম। আজ সকালে ধান কাটতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এসে দেখি জমিতে কোমড় পানি। ধান গাছ সব পানির নিচে।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান সাকিল বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে হাওরে পানি বেড়ে যাওয়ায় পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যদি পানি দ্রুত সরে যায় তাহলে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষক। পানি না কমলে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, নাসিরনগর উপজেলায় মোট কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৫১ হাজার। এ বছর প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর। যার ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশের মধ্যে ব্রি ধান ২৯, ব্রি-১০০, ব্রি-৯২, ব্রি-১০২ ও ব্রি-১০৮ ব্রি-৫৮ এখনো কাটা বাকি আছে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এনএইচআর/এএসএম