হবিগঞ্জে একদিনে ডুবলো ৬০০ হেক্টর জমির ধান, রয়েছে বন্যার শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি হবিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৫৬ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জে ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান। শুধু একদিনেই তলিয়ে গেছে ৬০০ হেক্টর জমির পাকা ধান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

এদিকে টানা কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টির পর আজ রোদের দেখা মিলেছে। কমেছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল। নামছে নদীগুলোর পানিও। তবে এতকিছুর পরও আগাম বন্যার শঙ্কা কাটেনি। বৃষ্টি হলেই হতে পারে আগাম বন্যা।

বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাসিন্দা এসএম সুরুজ আলী জানান, টানা কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছিল না। শুকানোও যাচ্ছিল না। আজ (বৃহস্পতিবার) রোদের দেখা মিলেছে। তাই ধান শুকাতে পারছি। এভাবে কয়েকদিন থাকলেই আর ধান তোলা নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকবে না।

একই উপজেলার সুজাতপুর শতমুখা গ্রামের বাসিন্দা শিবলী চৌধুরী বলেন, শুধু খাবারের উপযোগী ধান তুলতে পেরেছি। ২/৩ কেদার জমির ধান কাটতে পেরেছি। বাকি ধান এখনও জমিতে রয়ে গেছে। একদিকে বৃষ্টির পানি, অন্যদিকে খোয়াই নদীর বাঁধ উপচে হাওরে পানি এসে জমিগুলো তলিয়ে গেছে। এখনও হাওরের প্রায় অর্ধেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। ৪-৫টা দিন রোদ পেলেই আর সমস্যা থাকবে না।

হবিগঞ্জে একদিনে ডুবলো ৬০০ হেক্টর জমির ধান, রয়েছে বন্যার শঙ্কা

ধানের পাইকারি ব্যবসায়ী হামিদুল হক আখঞ্জী জানান, ধানের সরকারি মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় ধান কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বেশি দামে যদি ধান কিনি আর সরকার যদি পরবর্তীতে দাম কমিয়ে নির্ধারণ করে তাহলে তো লোকসানে বিক্রি করতে হবে।

অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ দ্বীপক কুমার পাল বলেন, কয়েকদিন পর আজ (বৃহস্পতিবার) রোদের দেখা মিলেছে। এভাবে আর ৪-৫ দিন থাকলেই কৃষকরা সব ধান তুলে আনতে পারবেন। আর সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬০০ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ছিল ২ হাজার ৭১০ হেক্টর। আমরা কৃষকদের বলছি দ্রুত ধান কাটতে। কয়েকদিন বৃষ্টি থাকার কারণে তারা ধান কাটতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। কারণ বৃষ্টির কারণে তারা ধান শুকাতে পারছিলেন না।

তিনি বলেন, আপাতত আগাম বন্যার তেমন আশঙ্কা করছি না। তবে একেবারে উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না। যদি বৃষ্টি আবারও বাড়ে তাহলে বন্যা হতে পারে।

জেলা প্রশাসক ড. জি.এম. সরফরাজ বলেন, এখনও আগাম বন্যার আশঙ্কা করছি না। তবে বন্যার পূর্বাভাস আছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে খোয়াই নদীতে পানি বেড়ে সুজাতপুরে বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ করে ২৪ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়েছে। তবে আশার খবর হলো উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল কমেছে। ফলে নদীগুলোতেও পানি কমছে। নদীর পানি নিচে নেমে গেলে হাওরের পানিও কিছুটা কমবে। তবে যদি বৃষ্টিপাত বাড়ে তাহলে আগাম বন্যা হবে না সেটি বলা যাবে না। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছি। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে হেল্পলাইন খোলা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে সেখানে যোগাযোগ করতে ক্ষতিগ্রস্তদের আহ্বান জানান তিনি।

হবিগঞ্জে একদিনে ডুবলো ৬০০ হেক্টর জমির ধান, রয়েছে বন্যার শঙ্কা

সরেজমিন ঘুরে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়। ফলনও হয় বাম্পার। কিন্তু অকালেই অবিরাম বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

অপরদিকে জেলার নদনদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পানি হাওরে ঢুকে ধান তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ধান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বানিয়াচং উপজেলায়। এ উপজেলায় প্রায় ১৭০০ হেক্টর এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ। বাস্তবে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরের ওপর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।