কিশোরগঞ্জে আবারো বৃষ্টি, বেড়েছে নদ-নদীর পানি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৩২ এএম, ০২ মে ২০২৬

টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একটি পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে জেলার হাওরাঞ্চলে বোরোধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

শনিবার (২ মে) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.০৬ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৭৩ মিটার, বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৪৫ মিটার, যা ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

কিশোরগঞ্জে আবারো বৃষ্টি, বেড়েছে নদ-নদীর পানি

অন্যদিকে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

পাউবো জানিয়েছে, সবকটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০৯ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে আবারো বৃষ্টি, বেড়েছে নদ-নদীর পানি

তবে উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে হাওরাঞ্চলের ফসলে আরও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এরই মধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। ফলে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা। গতকাল রোদ থাকলেও আজ সকাল থেকে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে খলায় রাখা ধান শুকাতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ধান শুকাতে না পারলে ধানে পচন ধরবে।

কিশোরগঞ্জে আবারো বৃষ্টি, বেড়েছে নদ-নদীর পানি

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৬ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমতে পারে।

এসকে রাসেল/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।