চাঁদপুরে কালবৈশাখীর থাবায় ভুট্টা চাষে বড় ধাক্কা
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজীকান্দি গ্রামে এখন উঠোনজুড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ভুট্টা। কিন্তু সেগুলো আর স্বস্তির নয়, বরং দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চাষিদের জন্য। প্লাস্টিকের চট সরাতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে ধোঁয়ার মতো বাষ্প, যেন চোখের সামনে গলে যাচ্ছে একেকটি কৃষকের স্বপ্ন।
কৃষি উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন সেই দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে অসহায় কণ্ঠে বলেন, গত মাসের কালবৈশাখী ঝড়ে ১৫০ শতক জমির ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে অনেক কষ্টে সেগুলো তুলে এনে বাড়ির উঠোনে শুকাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টিতে সেই ভুট্টা এখন পচনের ঝুঁকিতে। ‘আর কয়েকদিন এমন আবহাওয়া থাকলে সব শেষ হয়ে যাবে’, বলছিলেন তিনি।
শুধু ইমরান নন, একই গ্রামের আব্দুল জব্বার, দুলাল হোসেন, শাহজালাল, জসীমউদ্দীন, হাবিব সিকদার ও মুজিবুর রহমানসহ অনেক কৃষকেরই একই অবস্থা। কারও জমিতে এখনো পানি জমে আছে, আবার কেউবা উঠোনে ভুট্টা তুলে রেখেও শুকাতে পারছেন না।
কৃষক জসীমউদ্দিন বলেন, অনেক আশা নিয়ে এবার ভুট্টা চাষ করেছিলাম। প্রথমে ঝড়ে গাছ পড়ে গেলো, পরে যেটুকু তুলেছি, সেটাও এখন বাঁচানো কঠিন হয়ে গেছে। উঠোনে রাখা ভুট্টা ঘেমে নষ্ট হওয়ার মতো অবস্থায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভুট্টাগুলো একসঙ্গে স্তূপ করে রাখার কারণে ভেতরে অতিরিক্ত আর্দ্রতা তৈরি হচ্ছে। রোদ না থাকায় শুকানোর সুযোগ মিলছে না, ফলে ভেতরে তাপ জমে পচন শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
তবে আবহাওয়া অফিস কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবু সেই অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন এখন কৃষকদের জন্য অনিশ্চয়তায় ভরা কারণ উঠোনে পড়ে থাকা ভুট্টার স্তূপে জমে আছে তাদের ঘাম, শ্রম আর স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তরে ২৪৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অন্তত ৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে ভুট্টা ও বোরো ধানের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, যেন তারা ভুট্টা স্তূপ করে না রেখে ছড়িয়ে শুকানোর ব্যবস্থা করেন। এতে পচন অনেকটা কমানো সম্ভব।
শরীফুল ইসলাম/এমএন/এমএস