ফরিদপুর মেডিকেলে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বাধার মুখে সাংবাদিকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:০৯ এএম, ০৪ মে ২০২৬

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। সংশ্লিষ্টরা ওই সাংবাদিকদের জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল এলাকায় কোনো ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলা যাবে না। তবে হাসপাতালটির পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনাপত্র বা নোটিশ দেখাতে পারেননি তারা। মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেও এমন ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

রোববার (৩ মে) দুপুরের দিকে হাসপাতালটির নতুন ভবনের ক্যাজুয়ালটি ও নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে সংবাদ সংগ্রহে গেলে আনসার সদস্য ও দায়িত্বরত এক চিকিৎসক তাদের বাধা দেন। ওই দুই সাংবাদিকের মধ্যে রয়েছেন, আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) ও একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরা পার্সন।

বাধাপ্রাপ্ত দুই সাংবাদিক জানান, ফরিদপুর সদরে একটি ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে যান তারা। এসময় আহত ব্যক্তির ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে ক্যামেরা বের করলে দৌড়ে এসে এক আনসার সদস্য বাধা দেন। এরপর তিনি এক চিকিৎসককে ডেকে আনেন। ওই চিকিৎসক এসে নিজেকে দায়িত্বরত রেজিস্ট্রার হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার নাম ডা. তোফাজ্জেল হোসেন বলে জানান। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করা নিষেধ।

দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হাসান মাতুব্বর (শ্রাবণ) বলেন, ওই চিকিৎসক এসেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি জানতে চান- আপনারা কি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন? অনুমতি নিয়ে আপনাদের ভিডিও করতে হবে, এছাড়া ভিডিও করা যাবে না। পরবর্তীতে পরিচালকের কার্যালয়ে গেলে তিনি ঢাকায় আছেন বলে জানান। এরপর উপপরিচালক ডা. মানব কৃষ্ণ কুন্ডুর কাছে গেলে তিনিও অনুমতি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তখন তিনি বলেন, ‘পরিচালক স্যার ছাড়া আমরা কিছু বলতে পারব না। রোগীর সঙ্গে কথা বলেন, ভিডিও করবেন না।’ এভাবে প্রায় ১০ মিনিট গড়িমসি করতে থাকেন। এছাড়া বলেন, ‘আমরা যখন থাকব না, তখন এসে কাজ করেন।’

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি শেখ মনির হোসেন বলেন, এভাবেতো সাংবাদিকতা করা যাবে না, ইচ্ছামতো নিয়ম করে সংবাকিদকদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালতো স্বাস্থ্য ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, এটাতো রাষ্ট্রের গোপনীয় কোনো প্রতিষ্ঠান নয় যে অনুমতি নিতে হবে। প্রতিনিয়ত অনেক ঘটনা ঘটে থাকে, বড় দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে; তখন ক্ষতিগ্রস্ত বা হতাহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সে বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয় আমাদের। এভাবে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে গেলে আমাদের পেশাগত কাজেও বিঘ্ন ঘটবে।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা। যেখানে অন্ধকার সেখানে আলো ফেলা সাংবাদিকদের কাজ। একটি স্বাধীন দেশের হাসপাতালে সাংবাদিকরা কাজ করতে পারবে না- এটা কালাকানুন। তবে আমার জানামতে, এ জাতীয় নিয়ম বাংলাদেশে নেই। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যেটি করেছে সে বিষয়ে নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।

ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপিকা শিপ্রা রায় বলেন, সংবাদ মাধ্যম বা সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা থাকা উচিত। এটা শুধু সাধারণ মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে না, রাষ্ট্রেরও কল্যাণ বয়ে আনবে। আমরা মুখে স্বাধীনতার কথা বলি কিন্তু বাস্তবে হয় না। হাসপাতালে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত কাজ করে থাকেন, এমন নিয়ম করা আসলেই নিন্দনীয়।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, এমন আইন করা মানে মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায় এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করার কৌশল। এ ধরনের আইন করে থাকলে তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

এমন নিয়মের বিষয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন, আমার জানামতে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি। তবে রিসার্চের জন্য বা গবেষণার কাজে কোনো তথ্য-উপাত্ত নিতে হলে সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।