ক্যামেলিয়া হাসপাতালে তালা, একমাস ধরে চিকিৎসাবঞ্চিত লক্ষাধিক চা শ্রমিক
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৩৫টি বাগানের লক্ষাধিক চা শ্রমিক পরিবারের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ‘ক্যামেলিয়া হাসপাতাল’ দীর্ঘ এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসার অভাবে গত এক মাসে অন্তত ১০ জন চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে, গত ২৭ মার্চ শমশেরনগর চা বাগানের ঐশী রবিদাস নামে এক স্কুলছাত্রীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরদিন ২৮ মার্চ ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ একদল লোক হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং চিকিৎসকদের হেনস্তা করে। এ ঘটনার পর চিকিৎসক ও স্টাফদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইংল্যান্ডভিত্তিক ‘ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন’ কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় গত এক মাসে শমশেরনগর চা বাগানের রবি চাষা, অনিল রেলি, মাধুরী শাহা, লক্ষ্মী শাহা, ডবলছড়া চা বাগানের জুগল মির্ধা এবং কানিহাটি চা বাগানের বাসন্তী রবিদাসসহ অন্তত ১০ জন স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতায় মারা গেছেন।
চা শ্রমিকদের দাবি, হাসপাতালটি চালু থাকলে তারা অন্তত জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু পেতেন। টাকার অভাবে বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে না পেরে অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারীও বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
জানা যায়, হাসপাতালটি ইংল্যান্ড থেকে ক্যামেলিয়া ফাউন্ডেশন থেকে পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকেই বন্ধ করা হয়েছে।
চা শ্রমিক নেতা ও শমশেরনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৩৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক চা জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। টাকার অভাবে বেশিরভাগ মানুষ বাহির থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন না। কয়েকটি চা বাগানের অন্তত ১০ জন স্টোক করে মারা গেছেন। যদি হাসপাতাল চালু থাকতো তাহলে মরার আগে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে মারা যেতো।
এ বিষয়ে ক্যামেলিয়া হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার আনোয়ার হোসেনকে কয়েকবার কল দিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ইংল্যান্ড থেকে গত সপ্তাহে একটি চিঠি আসার কথা ছিল, তা আসেনি। হয়ত এই সপ্তাহে আসতে পারে। এরপর বোঝা যাবে হাসপাতাল চালুর বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি, হাসপাতালটি পুনরায় দ্রুত চালু করার জন্য।
এম ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম