আমুর পরিত্যক্ত বাসভবনে ‘বর্জ্য ফেলার স্থান’ লেখা ব্যানার
ঝালকাঠি শহরের রোনাল্ডস রোডে অবস্থিত সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবনটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংরক্ষণ ও উন্মুক্তকরণ—এ দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের জেরে বুধবার (৬ মে) ভবনটি নতুন করে জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে রাতের আঁধারে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বাসভবনের প্রধান ফটক টিনশেড দিয়ে ঘিরে দেন। এতে ভবনটির ভেতর জনসাধারণের প্রবেশ পুরোপুরি সীমিত হয়ে পড়ে। তবে বুধবার দুপুরে জুলাই ছাত্র আন্দোলনকারী পরিচয় দিয়ে একদল শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে আসে। তারা ড্রিল কাটার মেশিন ব্যবহার করে সেই টিনশেডের বেষ্টনী কেটে প্রবেশপথ উন্মুক্ত করে দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশের পর ভবনের কক্ষগুলোর সামনে ময়লা ফেলুন এবং সামনের খোলা জায়গায় খেলাধুলার আহ্বান জানিয়ে ব্যানার ও নির্দেশিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, ভবনটির আঙিনা জনসাধারণের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আল তৌফিক লিখন বলেন, ‘এটি অতীতের একটি প্রতীক। আমরা চাই এটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেই থাকুক। সংরক্ষণের নামে কোনো গোপন বা একক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’
জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইয়াসিন ফৈরদৌস ইফতিও একই সুরে বলেন, ‘এই জায়গাটি কোনো দখলমূলক কার্যক্রমের আওতায় যাবে না। এটি জনসাধারণের উন্মুক্ত স্থান হিসেবেই থাকবে।’

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, পুরো বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিত্যক্ত এই বাসভবনটি ঘিরে গত কয়েকদিনের ঘেরাও ও পরবর্তী উন্মুক্তকরণের ঘটনা শহরবাসীর মধ্যে নানা কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি কি নিছকই সংরক্ষণের উদ্যোগ ছিল নাকি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নতুন কোনো কৌশল, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
জানতে চাইলে ঝালকাঠি পৌরসভার সচিব শাহীন সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের এখনো কিছু জানা নেই। তবে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মো. আমিন হোসেন/এসআর/জেআইএম