বগুড়ায় ইজিবাইক ছিনতাই করে রংপুরে বিক্রি করতেন তারা
বগুড়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের সর্দারসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা চারটি ইজিবাইক, ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দুটি ওয়াকিটকি, একটি প্রাইভেটকার ও ছয়টি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়। ছিনতাই করা ইজিবাইক তারা রংপুরে বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) ভোরে বগুড়া সদরের চারমাথা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে প্রথমে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের হারাগাছ থানার বানুপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণ চর মশুরা এলাকার মামুন শিকদার (৪০), বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজ দুধল এলাকার মিঠু পাটোয়ারী (৩০), গাইবান্ধা সদর উপজেলার ব্যাপারীপাড়া এলাকার সুমন মিয়া (৩০), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিপাড়া (বালিয়াতলা) এলাকার জাকির হোসেন (৪০), একই জেলার বাউফল উপজেলার জৌতা এলাকার নিজাম (৪৬), রংপুরের হারাগাছ থানার বানুপাড়া এলাকার ওবায়দুল ইসলাম বেগ (৪০) এবং একই এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৪২)।
পুলিশ সুপার জানান, ৫ মে ভুক্তভোগী রায়হান বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে বলা হয়, গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে এক ব্যক্তি যাত্রী সেজে তার ইজিবাইক ভাড়া নেন। পরে টিএমএসএস হাসপাতালের কাছে গিয়ে নিজেকে সিভিল পুলিশ পরিচয় দিয়ে কৌশলে তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন। ভুক্তভোগী ফিরে এসে তার ইজিবাইক এবং ওই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাননি।
অভিযোগের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক ছিনতাই করে রংপুর এলাকায় বিক্রি করতেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই করা চারটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে একাধিক চুরি ও দস্যুতা মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
এলবি/এসআর/জেআইএম