ছদ্মনামে জনপ্রতিনিধি, ১৮ বছর পর র্যাবের জালে ধরা
যাবজ্জীবন সাজা এড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন চিহ্নিত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদ। শুধু তাই নয়, ছদ্মনামে তিনি প্রায় এক দশক জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অবশেষে ১৮ বছর পর র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি।
বুধবার (৬ মে) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, বুধবার দুপুরে র্যাব-৮ ও র্যাব-৩ এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার আবুল কালাম আজাদ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আমবাগান এলাকার আফেজ উদ্দীন আকনের ছেলে।
তিনি আরও জানান, ডিএমপির সবুজবাগ থানায় দায়ের হওয়া ২০০৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন।
রায়ের পর নিজ জেলা ঝিনাইদহ থেকে পালিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে আশ্রয় নেন আবুল কালাম আজাদ। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘মো. কালাম আকন’ নামে পরিচয় দেন এবং দীর্ঘ ১৮ বছর আত্মগোপনে থাকেন।
বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ ও র্যাব-৩ এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু আত্মগোপনই নয়, ছদ্মনামে তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টানা দুইবারের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার)। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শাওন খান/এফএ/এমএস