খাল খনন কি প্রধানমন্ত্রীর কাজ- প্রশ্ন শিশির মনিরের
খাল খনন প্রধানমন্ত্রীর কাজ কি না প্রশ্ন তুলে সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এসেছিলেন। এখানে খাল খননসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছেন। এগুলো কি প্রধানমন্ত্রীর কাজ? এর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড আছে, খেলাধুলার জন্য ক্রীড়া অধিদপ্তর এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত সঠিক লোককে সঠিক জায়গায় বসানো। তাহলে অটোমেটিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। আর এটাই হবে পরিবর্তন কিংবা সংস্কার।
এছাড়া ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা না হয়, তাহলে দেশে ৫ বছর পর অটোমেটিক ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হবে। এর বিপরীতে ফের গণঅভ্যুত্থান হবে বলে মন্তব্য করেন শিশির মনির।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে ‘জুলাই ঐক্য’ সিলেট আয়োজিত ‘গণরায় বাস্তবায়ন ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিকভাবে কাজ না করলে সুনামগঞ্জের হাওররক্ষা করা সম্ভব হবে না। এজন্য পাউবোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না এবং গণতন্ত্র টেকসই হবে না। রাষ্ট্রের আয় ব্যয়ের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করা না গেলে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। এজন্যই প্রয়োজন সংস্কার।
তিনি বলেন, বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো তাদের যারা রক্ষা করতো, তাদেরকে তারা রক্ষা করতে পারে না। ফলে এর পরিণতি তাদেরকেই বরণ করতে হয়। ১৯৭৫ সালে বিএনপিকে যারা ক্ষমতায় আনার পথ তৈরি করেছিল বিএনপি তাদের রক্ষা করতে পারেনি।
এবারও ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার সুযোগ করে দিয়েছিল তাদেরকেও তারা রক্ষা করতে চায় না। এজন্য ভবিষ্যতেও তাদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। কারণ জুলাই সনদ উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিশির মনির আরও বলেন, আমাদেরকে এখন কোনটা সংস্কার কোনটা সংশোধন সেটা শেখানো হচ্ছে। অথচ জুলাই সনদের প্রথম কথাই হচ্ছে সংস্কার। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে জাতীয় সংসদের পাশাপাশি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং জুলাই ঐক্য সিলেটের অন্যতম সমন্বয়ক সিলেট জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রবের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. ইসমাঈল পাটোয়ারী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কেমুসাসের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা এমরান আলম ও সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী প্রমুখ।
আহমেদ জামিল/এফএ/এমএস